ঢাকায় বিপিসি কার্যালয় স্থানান্তরের নেপথ্যে কী?রাষ্ট্রীয় জ্বালানি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয়করণের’ নতুন খেলা, নাকি চট্টগ্রামকে দুর্বল করার নীরব কৌশল?
বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন-
বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, আমদানি বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক প্রবাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন। দেশের প্রায় সব জ্বালানি তেল আমদানি, সংরক্ষণ ও সরবরাহ ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণকারী এই প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয় ঘিরে এখন শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক।
অভিযোগ উঠেছে—দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিতভাবে বিপিসির কার্যক্রম ঢাকামুখী করা হচ্ছে। আর এর মধ্যেই চট্টগ্রামে তৈরি হয়েছে তীব্র ক্ষোভ, উদ্বেগ ও রাজনৈতিক উত্তাপ।
“কার্যালয় চট্টগ্রামে, ক্ষমতা ঢাকায়”
১৯৮৯ সালে সরকারের বিকেন্দ্রীকরণ নীতির আওতায় বিপিসির প্রধান কার্যালয় ঢাকার পেট্রোবাংলা ভবন থেকে চট্টগ্রামে স্থানান্তর করা হয়। উদ্দেশ্য ছিল—বন্দরনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থাপনাকে বাস্তবভিত্তিক করা এবং ঢাকাকেন্দ্রিক প্রশাসনিক চাপ কমানো।
কিন্তু তিন দশক পর এসে প্রশ্ন উঠেছে—
> “প্রধান কার্যালয় কি এখন শুধু সাইনবোর্ডেই চট্টগ্রামে?”
বিপিসির সাবেক ও বর্তমান একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, নীতিনির্ধারণী বৈঠক, টেন্ডার প্রক্রিয়া এবং উচ্চপর্যায়ের সমন্বয়ের বড় অংশই এখন ঢাকাকেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে।
এক কর্মকর্তা বলেন—
> “চট্টগ্রামে ভবন আছে, অফিস আছে; কিন্তু কার্যকর প্রশাসনিক শক্তি ধীরে ধীরে ঢাকায় কেন্দ্রীভূত করা হচ্ছে।”
৫০ কোটি টাকার ভবন, কিন্তু ‘খালি করিডোর’?
ম্প্রতি চট্টগ্রামে বিপিসির নিজস্ব আধুনিক ভবন নির্মাণে প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, চেয়ারম্যানসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের অনেকেই অধিকাংশ সময় কাটান ঢাকার লিয়াজোঁ অফিসে।
ফলে নতুন ভবনটি কার্যত প্রশাসনিক প্রাণহীনতায় ভুগছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।
স্থানীয় ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন—
> “যদি সিদ্ধান্ত ঢাকাতেই হয়, তাহলে চট্টগ্রামে এত বড় ভবন নির্মাণের যৌক্তিকতা কোথায়?”
চট্টগ্রামের ক্ষোভ: “এটি শুধু অফিস নয়, অর্থনৈতিক মর্যাদার প্রশ্ন”
বন্দরনগরী চট্টগ্রাম দেশের আমদানি-রপ্তানি, জ্বালানি সরবরাহ ও শিল্প অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দু। ফলে বিপিসির মতো প্রতিষ্ঠান এখানে থাকার বিষয়টি কেবল প্রশাসনিক নয়—এটি অর্থনৈতিক ও কৌশলগত গুরুত্বেরও প্রতীক।
‘সচেতন চট্টলাবাসী’-এর নেতারা অভিযোগ করছেন—
> “চট্টগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলো একে একে ঢাকায় কেন্দ্রীভূত করা হচ্ছে। এটি আঞ্চলিক বৈষম্য আরও বাড়াবে।”
সচেতন চট্টলাবাসীর পক্ষে মানববন্ধন, প্রতিবাদ সমাবেশ এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন।
নেপথ্যে কি আমলাতান্ত্রিক সুবিধাবাদ?
সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশ মনে করছেন, ঢাকাকেন্দ্রিক প্রশাসনিক সুবিধা, রাজনৈতিক যোগাযোগ ও কর্পোরেট লবিংয়ের সুবিধা নিতে কিছু প্রভাবশালী মহল বিপিসিকে ধীরে ধীরে ঢাকামুখী করতে চাইছে।
জ্বালানি বিশ্লেষকরা বলছেন—
বন্দরনির্ভর প্রতিষ্ঠানকে রাজধানীমুখী করা বাস্তবসম্মত নয়
এতে মাঠপর্যায়ের সমন্বয় ব্যাহত হতে পারে
সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নের মধ্যে দূরত্ব বাড়বে
চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক গুরুত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হবে
রাজনৈতিক অঙ্গনেও উত্তাপ
চট্টগ্রামের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, পেশাজীবী সংগঠন ও নাগরিক সমাজ ইতোমধ্যে বিষয়টিকে আঞ্চলিক অধিকার ও মর্যাদার প্রশ্ন হিসেবে দেখছে।
একাধিক সংগঠন বলছে—
> “বিকেন্দ্রীকরণের নামে প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানকে পুনরায় ঢাকায় কেন্দ্রীভূত করা সরকারের মূল নীতির পরিপন্থী।”
প্রশ্ন এখন একটাই…
চট্টগ্রামে কি শুধুই থাকবে বিপিসির নামফলক?
নাকি বাস্তবিক অর্থেই প্রধান কার্যালয়ের কার্যক্রম ফিরবে বন্দরনগরীতে?
রাষ্ট্রীয় এই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ ঘিরে এখন চট্টগ্রামে বাড়ছে উদ্বেগ, রাজনৈতিক চাপ ও জনআন্দোলনের সুর।
আর সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুরো বন্দরনগরী।
বিপিসি কার্যালয় ঢাকা স্থানান্তরের পাঁয়তারার প্রতিবাদে চট্টগ্রামে বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও স্মারকলিপির ঘোষণা সচেতন চট্টলাবাসী-
চট্টগ্রামের অর্থনীতি ও জ্বালানি খাতের কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন-এর প্রধান কার্যালয় ঢাকা স্থানান্তরের সম্ভাব্য উদ্যোগের প্রতিবাদে ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে বন্দরনগরী। ‘সচেতন চট্টলাবাসী’-এর ব্যানারে বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক, পেশাজীবী ও নাগরিক সংগঠন এই সিদ্ধান্ত প্রতিহতের ঘোষণা দিয়েছে।
কর্মসূচির ঘোষণা
চট্টগ্রামের স্বার্থ রক্ষায় ইতোমধ্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে—
নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধন
রাজনৈতিক ও নাগরিক সমাজের সমন্বয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান।
বিপিসির প্রধান কার্যালয় চট্টগ্রামেই পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর রাখার দাবি।
আন্দোলনকারীরা বলছেন, চট্টগ্রাম দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার কেন্দ্র হওয়ায় বিপিসির প্রধান কার্যালয় এখানেই থাকা যৌক্তিক। তারা মনে করেন, কার্যালয় ঢাকায় সরিয়ে নেওয়া হলে বিকেন্দ্রীকরণ নীতি ব্যাহত হবে এবং চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক গুরুত্ব ক্ষুণ্ন হবে।
পটভূমি ও অভিযোগ
১৯৮৯ সালে সরকারের বিকেন্দ্রীকরণ নীতির অংশ হিসেবে বিপিসির প্রধান কার্যালয় ঢাকার পেট্রোবাংলা ভবন থেকে চট্টগ্রামে স্থানান্তর করা হয়। সম্প্রতি প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে চট্টগ্রামে বিপিসির নিজস্ব আধুনিক ভবন নির্মাণ করা হলেও অভিযোগ রয়েছে—চেয়ারম্যান ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অধিকাংশ সময় ঢাকার লিয়াজোঁ অফিসে অবস্থানের কারণে চট্টগ্রাম কার্যালয় কার্যত গুরুত্বহীন হয়ে পড়ছে।
সচেতন মহলের দাবি, এটি ধীরে ধীরে কার্যালয় স্থানান্তরের পূর্বপ্রস্তুতির অংশ হতে পারে। তাই যেকোনো “গোপন পাঁয়তারা” রুখে দিতে বৃহত্তর আন্দোলনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
আন্দোলনকারীদের বক্তব্য
নাগরিক নেতারা বলছেন—
> “চট্টগ্রাম দেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র। এখানে থাকা রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলো একে একে ঢাকায় সরিয়ে নেওয়া হলে আঞ্চলিক বৈষম্য আরও বাড়বে।”
তারা আরও বলেন, বিপিসির কার্যক্রম চট্টগ্রাম বন্দরের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত হওয়ায় এর প্রধান কার্যালয় চট্টগ্রামে থাকাই বাস্তবসম্মত ও জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত।
🖊️দিন ও তারিখ এবং স্হান জানিয়ে দেওয়া হবে।
যোগাযোগ ও সৌজন্যে:
সচেতন চট্টলাবাসী পক্ষে-
মুনীর চৌধুরী।
ইমেইল-mchypd@gmail.com
বিস্তারিত জানতে-
🌐https://jantechaijanatechai.com
জনস্বার্থে-
মুনীর চৌধুরী প্রাইভেট ডিটেকটিভ লিমিটেড
Mounir Chowdhury Private Detective Ltd.
( দুর্নীতি ও অপরাধ দমনে জনগণ ও সরকারকে সহায়তায় আমাদের লক্ষ্য)
[Government Regard Of Bangladesh]
জাতীয় সংসদের গেজেট সুরক্ষা প্রদান ৭নং আইন ২০১১ এবং বিধিমালা ২০১৭-এর আওতায় জনস্বার্থে তথ্য প্রকাশকারী.