বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা শহীদ জিয়া: ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকীতে বিনম্র শ্রদ্ধা
আজ ৩০ মে, আধুনিক বাংলাদেশের স্থপতি, বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধারকারী এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী। ১৯৮১ সালের এই দিনে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে একদল বিপথগামী সেনা সদস্যের নির্মম বুলেটের আঘাতে তিনি শাহাদাতবরণ করেন। তাঁর এই অকাল প্রয়াণ ছিল সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অপূরণীয় ক্ষতি এবং গভীর শোকের দিন।
১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতার সংকটময় মুহূর্তে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে তাঁর ঐতিহাসিক স্বাধীনতার ঘোষণা দিকভ্রান্ত বাঙালি জাতিকে মুক্তিসংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ার প্রেরণা জুগিয়েছিল। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং জেড ফোর্সের অধিনায়ক হিসেবে রণাঙ্গনে তাঁর যুদ্ধজয়ের বীরত্বগাথা চিরস্মরণীয়। পরবর্তীতে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে তিনি রাষ্ট্রপরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং তলাবিহীন ঝুড়ির অপবাদ থেকে দেশকে মুক্ত করে এক স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করেন।
শহীদ জিয়ার প্রবর্তিত ১৯-দফা কর্মসূচি, ১৯-দফার ভিত্তিতে অর্থনৈতিক বিপ্লব এবং খালের পানি সেচ কর্মসূচির মতো কালজয়ী পদক্ষেপগুলো দেশের অর্থনীতি ও কৃষি খাতে এক অভূতপূর্ব জাগরণ সৃষ্টি করেছিল। তিনি কেবল রাজনীতিতেই বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেননি, বরং 'বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ'-এর কালজয়ী দর্শনের মাধ্যমে জাতিকে এক অনন্য আত্মপরিচয় দিয়েছিলেন। এই মহান নেতার ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকীতে তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করি এবং তাঁর রেখে যাওয়া দেশপ্রেমের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার শপথ গ্রহণ করছি।