ওসির অমানবিক আচরণ: ২দিন পুলিশি হেফাজতে শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন ধ্বংসের দায় কার?
চট্টগ্রামের বাকলিয়া থানায় (২দিন) পুলিশি হেফাজতে থাকার কারণে এক এসএসসি পরীক্ষার্থীর ব্যবহারিক (প্র্যাক্টিক্যাল) পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারার ঘটনাটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন।
মে মাসের শেষের দিকে বাকলিয়ার চেয়ারম্যানঘাটা এলাকার একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ওই শিক্ষার্থীকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। কিন্তু দুঃখের বিষয়, বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সোলাইমান তাকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার ন্যূনতম সুযোগটুকু দেননি।
একটি শিক্ষার্থীর দীর্ঘ ১০ বছরের কঠোর পরিশ্রম ও সাধনার ফসল হলো এসএসসি পরীক্ষা। পরিবারের পক্ষ থেকে ওসির কাছে বারবার আকুতি-মিনতি করা হলেও ওসির অনমনীয় ও নিষ্ঠুর মনোভাবের কারণে ছেলেটি পরীক্ষা কেন্দ্রে যেতে পারেনি। এর ফলে শিক্ষার্থীটির একটি মূল্যবান বছর পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেল এবং তার পুরো শিক্ষাজীবন এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে।
মানবাধিকার নেতা এডভোকেট লোকমান হাকিম চৌধুরী বলেন
যেকোনো নাগরিকের অপরাধ বা সন্দেহ থাকলে দেশের প্রচলিত আইনে তার বিচার হবে। কিন্তু ২দিন পুলিশি হেফাজতে রেখে একজন শিক্ষার্থীর পরীক্ষা দেওয়ার মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়া কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। উচ্চ আদালতের স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে যে, কাস্টডিতে বা কারাগারে থাকা অবস্থায়ও পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা দেওয়ার সুব্যবস্থা করতে হবে। ওসির এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন ও অমানবিক আচরণ দেশের আইন এবং মানবিক মূল্যবোধের পরিপন্থী।
আমরা এই অমানবিক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। একই সাথে, একজন শিক্ষার্থীর স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎ ধ্বংস করার দায়ে বাকলিয়া থানার ওসির বিরুদ্ধে অবিলম্বে বিভাগীয় তদন্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আকুল আবেদন—আইনি জটিলতা কাটিয়ে ওই শিক্ষার্থীর বিশেষ ব্যবস্থায় ব্যবহারিক পরীক্ষা নেওয়ার কোনো সুযোগ আছে কি না, তা যেন মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করা হয়।