সাংবাদিক মুনীর চৌধুরীর নেতৃত্বে তীব্র আন্দোলনের মুখে পিছু হটল বিপিসি: পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক রাজধানীর দাবিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ১২ দফা স্মারকলিপি দিল ‘সচেতন চট্টলাবাসী’.
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম:
নাগরিক উন্নয়ন সংগঠন 'সচেতন চট্টলাবাসী’র প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক ও বিশিষ্ট সাংবাদিক মুনীর চৌধুরীর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে সাধারণ জনগণের তীব্র আন্দোলনের মুখে অবশেষে পিছু হটেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)। চট্টগ্রাম থেকে প্রধান কার্যালয় ঢাকায় স্থানান্তরের আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত থেকে কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ণ সরে আসতে বাধ্য হয়েছে। চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক অধিকার রক্ষায় সাধারণ মানুষের এই বিজয়কে এক ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন সচেতন মহল।
উল্লেখ্য, একদিকে চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী ঘোষণার তোড়জোড় চলছিল, অন্যদিকে সরকারের একটি অংশ গোপনে বিপিসির মূল চালিকাশক্তি ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের ঢাকায় সরিয়ে নেওয়ার চক্রান্ত করছিল। এই বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে সাংবাদিক মুনীর চৌধুরীর আহ্বানে রাজপথে নামে নাগরিক সংগঠন ‘সচেতন চট্টলাবাসী’। সংগঠনটির পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছিল যে, চট্টগ্রামকে ফাঁকা করে কোনো বাণিজ্যিক রাজধানী হতে দেওয়া হবে না। সচেতন চট্টলাবাসী ও চট্টগ্রামের সর্বস্তরের জনগণ যদি সময়মতো এই কঠোর আন্দোলনে না নামত, তবে বিপিসিকে চিরতরে ঢাকার নিয়ন্ত্রণে নিয়ে যাওয়া হতো। জনগণের এই গণদাবি, তীব্র প্রতিবাদ ও আন্দোলনের মুখে অবশেষে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং বিপিসি কর্তৃপক্ষের পিছু হটার ঘোষণা আসে। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রীও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, বিপিসি চট্টগ্রামেই থাকবে এবং এর প্রধান কার্যালয় স্থানান্তরের কোনো সুযোগ নেই।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ১২ দফা স্মারকলিপি ও সাক্ষাতের সিদ্ধান্ত:
এদিকে চট্টগ্রামকে কেবল কাগজে-কলমে নয়, বরং রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক রাজধানী’ হিসেবে ঘোষণার দাবিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর ১২ দফা সংবলিত একটি ঐতিহাসিক স্মারকলিপি দিয়েছে ‘সচেতন চট্টলাবাসী’। সংগঠনটি চট্টগ্রামকে একটি আধুনিক ও পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের লক্ষ্যে খুব শীঘ্রই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে সরাসরি সাক্ষাৎ করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
‘সচেতন চট্টলাবাসী’র প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক সাংবাদিক মুনীর চৌধুরী বলেন, "বিপিসি রক্ষা চট্টগ্রামের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ের প্রথম ধাপ মাত্র। আমাদের মূল লক্ষ্য চট্টগ্রামকে রাষ্ট্রীয়ভাবে পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক রাজধানীর মর্যাদা দেওয়া। এই লক্ষ্যেই আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ১২ দফা দাবি জানিয়েছি এবং তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করে চট্টগ্রামের সামগ্রিক উন্নয়নের রূপরেখা তুলে ধরব। সাধারণ মানুষকে সাথে নিয়ে সচেতন চট্টলাবাসী চট্টগ্রামের স্বার্থবিরোধী যেকোনো ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রাজপথে ঢাল হয়ে দাঁড়াবে।"
চট্টগ্রামের অস্তিত্ব ও স্বাধিকার রক্ষার লড়াইয়ে এগিয়ে আসুন!
চট্টগ্রামকে ফাঁকা করে কোনো 'কাগজে' বাণিজ্যিক রাজধানী চলবে না।
১২ দফা দাবী (সচেতন চট্টলাবাসী'র পক্ষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর পেশকৃত)
১. চট্টগ্রামকে রাষ্ট্রীয় অধ্যাদেশ বা গেজেটের মাধ্যমে 'পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক রাজধানী'র আইনি স্বীকৃতি দেওয়া।
২. বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)-সহ চট্টগ্রামে অবস্থিত সকল সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয় স্থায়ীভাবে চট্টগ্রামে রাখা এবং কোনো দপ্তর স্থানান্তরের চক্রান্ত বন্ধ করা।
৩. চট্টগ্রাম বন্দরকে বিশ্বমানের আধুনিকায়ন করা এবং এর আয়ের একটি নির্দিষ্ট অংশ চট্টগ্রামের সার্বিক উন্নয়নে বরাদ্দ দেওয়া।
৪. চট্টগ্রামে বিনিয়োগ আকর্ষণে বিশেষ কর রেয়াত (Tax Holiday) এবং ওয়ান-স্টপ বিজনেস সার্ভিস সেন্টার চালু করা।
৫. বে টার্মিনাল এবং লালদিয়া টার্মিনাল প্রকল্প দ্রুত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন করা।
৬. চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে আধুনিকায়ন করে পর্যাপ্ত আন্তর্জাতিক রুটের ফ্লাইট চালু করা।
৭. চট্টগ্রামের জরাজীর্ণ সড়ক ও মহাসড়কের সংস্কার এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে মেগা প্রকল্পগুলোর দ্রুত ও টেকসই সমাপ্তি নিশ্চিত করা।
৮. বাণিজ্যিক রাজধানীর উপযোগী করে চট্টগ্রামের গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির সংকট স্থায়ীভাবে সমাধান করা।
৯. তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে মিরসরাই ও আনোয়ারার অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর (EPZ) কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা।
১০. চট্টগ্রামে বিশ্বমানের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে বিশেষায়িত সরকারি হাসপাতাল ও মেডিকেল রিসার্চ সেন্টার স্থাপন।
১১. চট্টগ্রামের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষা এবং পর্যটন শিল্প (পতেঙ্গা, ফয়েস লেক) আধুনিকায়ন করা।
১২. বাণিজ্যিক কার্যক্রমের সুবিধার্থে অর্থ মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি করে শক্তিশালী লিয়াজোঁ বা বিশেষায়িত উইং স্থায়ীভাবে চট্টগ্রামে স্থাপন করা।