কোনো ধরনের হয়রানি, অসহযোগিতা বা দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি:সিডিএ চেয়ারম্যান.
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) অতীত গৌরব ও জনআস্থা পুনরুদ্ধারের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন। একই সঙ্গে ভবনের নকশা (প্ল্যান) অনুমোদনে কোনো ধরনের হয়রানি, অসহযোগিতা বা দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
শনিবার (২০ জুন) বিকেলে সিডিএ ভবনের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক সমন্বয় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় চট্টগ্রামের বিভিন্ন সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্যরা অংশ নিয়ে পরিকল্পিত নগরায়ন, আইন প্রয়োগ, সেবা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা এবং সিডিএ’র কার্যক্রম আরও গতিশীল করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সিডিএ চেয়ারম্যান বলেন, ‘সিডিএ সম্পর্কে মানুষের মনে অনেক নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে। একটি ভবনের প্ল্যান অনুমোদনের জন্য মানুষকে বছরের পর বছর ঘুরতে হব— এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’ তিনি জানান, জনবান্ধব সেবা নিশ্চিত করতে কেউ বাধা সৃষ্টি করলে কিংবা দুর্নীতির আশ্রয় নিলে তার বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় অপরিকল্পিত নগরায়নের প্রসঙ্গ তুলে বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘অতীতে অনেক ক্ষেত্রে নিয়ম না মেনে ভবন নির্মাণ হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে অনেক এলাকায় বিশৃঙ্খল নগরায়ন তৈরি হয়েছে।’ এসব অনিয়মের পেছনে দুর্নীতি বা দায়িত্বে অবহেলার বিষয়ও থাকতে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।
সভায় অংশ নেওয়া সংসদ সদস্যরা সিডিএ’র অতীতের সুনাম ও সক্ষমতা পুনরুদ্ধারের আহ্বান জানান। তারা বলেন, চট্টগ্রামকে পরিকল্পিত, টেকসই, পরিবেশবান্ধব এবং দুর্যোগ-সহনশীল নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে হলে সিডিএকে আরও দৃঢ়ভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ বলেন, ‘সিডিএ’র অতীত গৌরব ফিরিয়ে আনতে হবে। একসময় সংস্থাটি পরিকল্পিত নগর উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও নানা কারণে সেই অবস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’ তিনি সেবা সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর পাশাপাশি নগর পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আইনি কাঠামো আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেন।
চট্টগ্রাম-১২ আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক বলেন, ‘সিডিএ যদি কঠোরভাবে আইন প্রয়োগ করে, তাহলে অনুমোদনের বাইরে ভবন নির্মাণের সুযোগ থাকবে না।’ নগরবাসীর মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান বলেন, ‘নগরের উন্নয়ন ও প্রয়োজনীয় আইন সংস্কারে সংসদ সদস্যরা একযোগে কাজ করবেন। তবে নগর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং অবৈধ স্থাপনা নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব সিডিএকেই নিতে হবে।’
অন্যদিকে চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান সমন্বয়হীনতাকে নগর উন্নয়নের বড় বাধা হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি সিডিএ চেয়ারম্যানকে আইন প্রয়োগে দৃঢ় থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রভাবশালীদের চাপ উপেক্ষা করে নিয়ম অনুযায়ী কাজ করতে পারলেই কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন সম্ভব।
সভায় উপস্থিত সংসদ সদস্যরা চলমান উন্নয়ন প্রকল্প দ্রুত সম্পন্ন করা, মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন, উপশহর গড়ে তোলা এবং বিভিন্ন সেবা সংস্থার মধ্যে সমন্বয় জোরদারের প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দেন।
সভাপতির বক্তব্যে সিডিএ চেয়ারম্যান জানান, সভায় উত্থাপিত পরামর্শ ও সুপারিশের আলোকে একটি কার্যকর কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হবে। পরিকল্পিত, সবুজ, নান্দনিক ও টেকসই চট্টগ্রাম গড়ে তুলতে সিডিএ আরও সক্রিয় ও জবাবদিহিমূলক ভূমিকা পালন করবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।