মানবিক সংগঠন “হাসি”র দীর্ঘ পথচলা: অসহায় মানুষের পাশে এক উজ্জ্বল নাম
“একটু হাসির প্রচেষ্টা”কে সামনে রেখে ২০১৪ সালের “জুন মাসে হাসি” নামক একটি মানবিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করা হয়। প্রিয় বন্ধু সাহনেওয়াজের সহযোগিতায় সংগঠনটির যাত্রা শুরু করেন এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্যরা। সেই থেকে শুরু হয় “হাসি”র মানবিক কার্যক্রম, যা আজও অসহায় ও দুস্থ মানুষের পাশে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
শুরুর দিকে সংগঠনটি অসহায় শিশুদের মাঝে বস্ত্র বিতরণের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু করে। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে ফ্রি চিকিৎসা সেবা, শিক্ষা উপকরণ বিতরণ এবং গাছের চারা রোপণসহ বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসে। মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আগমনের সময় সংগঠনটি খাদ্য ও চিকিৎসা সামগ্রী নিয়েও পাশে দাঁড়ায়।
সংগঠনের প্রাথমিক পর্যায়ে যারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য— মহিউদ্দিন জনি, মঈনুদ্দিন মনি, মিনহাজ উদ্দিন রনি, আহমেদ মনসুর, সাইদুর রহমান সাইমন, ইরফানুল আলম হিমেল, মোহাম্মদ শামছু, মোহাম্মদ লিটন, সাইফুদ্দিনসহ আরও অনেকে।
পরবর্তীতে সংগঠনের মানবিক কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হয় এবং নেতৃত্বে আসেন মোহাম্মদ মহিউদ্দিন, আব্দুন নুর আইয়ুব, মোহাম্মদ মোর্শেদ, আবুল হাসনাত রাসেল, এম হামিদ হোসাইন, সাইফুদ্দিন মোহাম্মদ দস্তগীর, এন মোহাম্মদ রিমন, অভি, সৌরভ, তারেক, সৌমিক, তোফাজ্জল রুকন, আশরাফ জামান, মোহাম্মদ তৌহিদ, ফরহাদ, জসি, মিনহাজ, সামি, তাছিনসহ তাদের বন্ধুবান্ধবরা।
প্রতিবছর ঈদে বস্ত্র বিতরণ, শীতে শীতবস্ত্র, রমজানে ইফতার সামগ্রী বিতরণ এবং অসুস্থ ও কন্যাদায়গ্রস্ত পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করে আসছে সংগঠনটি। করোনা মহামারির সময় মাস্ক, সাবান ও স্যানিটাইজার বিতরণের পাশাপাশি রাস্তার ধারে হাত ধোয়ার জন্য পানির ড্রাম স্থাপন করা হয়। লকডাউনের সময় মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের পরিবারের ঘরে ঘরে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়।
এছাড়া সংগঠনের সদস্যরা নিজস্ব অর্থায়নে রান্না করা খাবার চট্টগ্রামের বিভিন্ন জনবহুল এলাকায় অসহায় মানুষের মাঝে বিতরণ করেন। সম্প্রতি ফেনীতে ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্যও খাদ্যসামগ্রী নিয়ে পাশে দাঁড়ায় “হাসি”।
সংগঠনটির অন্যতম প্রশংসিত উদ্যোগ হলো বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা। প্রথমে কোতোয়ালি থানার গেইটে ঠান্ডা পানির মেশিন স্থাপন করা হয়। পরবর্তীতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল, জামেয়া খানকাহ শরিফ, কদম মোবারক স্কুল, লালখান বাজার স্কুল, কর্ণফুলী ব্রিজ এলাকা, চাকতাই ভাঙাপুল, আনসার ক্লাব, নাসিরাবাদ শিল্পাঞ্চল ও পুলিশ সদস্যদের জন্য একাধিক বিশুদ্ধ পানির মেশিন স্থাপন করা হয়।
তীব্র গরমে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ঠান্ডা পানি ও শরবত বিতরণ এবং পথশিশুদের মাঝে খাবার বিতরণ কার্যক্রমও নিয়মিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে।
সংগঠনের পানির মেশিন রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচ্ছন্নতায় আইয়ুব ও মহিউদ্দিনের ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
সংগঠনটি সরকারি অনুমোদন লাভ করেছে এবং ভবিষ্যতে সারাদেশে মানবিক কার্যক্রম বিস্তারের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।
মানবিক সংগঠন “হাসি” সকল আর্থিক সহযোগী, শুভানুধ্যায়ী, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং সাংবাদিকদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে।
সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আগামীতেও সারা বাংলাদেশের অসহায় মানুষের পাশে থেকে মানবিক কাজ অব্যাহত রাখতে সবার দোয়া, সহযোগিতা ও পরামর্শ কামনা করা হচ্ছে।
শুভেচ্ছান্তে-
মোছলেহ উদ্দিন মুন্না (মানবিক যোদ্ধা)
প্রতিষ্ঠাতা
হাসি.