“স্মার্ট পুলিশিংয়ের যুক্তি সামনে আনছে প্রশাসন, আর ক্যারিয়ার সংকোচনের আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন মাঠপর্যায়ের ১.৬ লাখ সদস্য”
বিশেষ প্রতিনিধি-
বাংলাদেশ পুলিশে একযোগে ৪ হাজার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সরাসরি নিয়োগের উদ্যোগ ঘিরে বাহিনীর অভ্যন্তরে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক। ১৯৪৩ সালের পুলিশ রেগুলেশন অব বেঙ্গল (PRB) সংশোধনের মাধ্যমে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নিয়ে একদিকে যেমন প্রশাসন আধুনিক পুলিশিংয়ের যুক্তি তুলে ধরছে, অন্যদিকে মাঠপর্যায়ের সদস্যরা দেখছেন নিজেদের ভবিষ্যৎ পদোন্নতির পথে নতুন অনিশ্চয়তা।
পুলিশ সদর দপ্তরের সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, সাইবার অপরাধ, আর্থিক জালিয়াতি, ডিজিটাল প্রতারণা, আন্তর্জাতিক অপরাধ চক্র এবং প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ মোকাবিলায় দক্ষ ও উচ্চশিক্ষিত জনবল তৈরির লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, বর্তমান সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শুধুমাত্র প্রচলিত প্রশিক্ষণ নয়, প্রযুক্তি-সচেতন ও আধুনিক জ্ঞানসম্পন্ন কর্মকর্তার সংখ্যা বাড়ানো জরুরি।
তবে মাঠপর্যায়ের অনেক সদস্য মনে করছেন, সরাসরি নিয়োগের হার বাড়ানো হলে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত কনস্টেবল, নায়েক, এএসআই এবং অন্যান্য সদস্যদের পদোন্নতির সুযোগ সংকুচিত হবে। তাদের অভিযোগ, বছরের পর বছর মাঠে কাজ করে অর্জিত অভিজ্ঞতার যথাযথ মূল্যায়ন না হলে বাহিনীর মধ্যে হতাশা সৃষ্টি হতে পারে।
একাধিক পুলিশ সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বর্তমানে অনেক সদস্য দীর্ঘ সময় চাকরি করেও কাঙ্ক্ষিত পদোন্নতি পান না। নতুন করে বিপুল সংখ্যক সরাসরি নিয়োগ হলে বিদ্যমান পদজট আরও বাড়তে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, একটি আধুনিক পুলিশ বাহিনী গড়ে তুলতে নতুন মেধাবী কর্মকর্তাদের অন্তর্ভুক্তি অবশ্যই প্রয়োজন। তবে একই সঙ্গে অভিজ্ঞ সদস্যদের জন্য দক্ষতা উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ এবং স্বচ্ছ পদোন্নতির সুযোগ নিশ্চিত না করলে প্রশাসনিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বের অনেক দেশেই সরাসরি নিয়োগ ও বিভাগীয় পদোন্নতির মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা হয়। এতে একদিকে নতুন প্রযুক্তিগত জ্ঞানসম্পন্ন কর্মকর্তা যুক্ত হন, অন্যদিকে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ সদস্যরাও নেতৃত্বের পর্যায়ে উন্নীত হওয়ার সুযোগ পান।
সংশ্লিষ্ট মহলের প্রশ্ন, আধুনিকায়নের নামে যদি অভিজ্ঞ জনবলের মনোবল ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে সেই আধুনিকায়নের সুফল কতটা কার্যকর হবে? আবার প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ মোকাবিলায় দক্ষ নতুন কর্মকর্তার প্রয়োজনীয়তাও অস্বীকার করার সুযোগ নেই।
বর্তমানে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে একটি বিষয়—বাংলাদেশ পুলিশ কি এমন একটি নিয়োগ ও পদোন্নতি কাঠামো গড়ে তুলতে পারবে, যেখানে আধুনিক দক্ষতা এবং দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা সমানভাবে মূল্যায়িত হবে?
এই প্রশ্নের উত্তরই নির্ধারণ করতে পারে ভবিষ্যতের পুলিশ প্রশাসনের কাঠামো, কর্মপরিবেশ এবং সদস্যদের পেশাগত সন্তুষ্টির চিত্র।এই খসড়াটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের স্টাইলে সাজানো হয়েছে। প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, পুলিশ সদর দপ্তর, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং মাঠপর্যায়ের সদস্যদের বক্তব্য আলাদাভাবে যাচাই ও যুক্ত করা উচিত, যাতে প্রতিবেদনটি ভারসাম্যপূর্ণ ও তথ্যভিত্তিক থাকে।