সমাজকে এগিয়ে নিতে সঠিক সংবাদ প্রচারে গুরুত্ব দিতে হবে: আবদুস সালাম
সমাজকে সামনে এগিয়ে নিতে হলে সঠিক সংবাদ প্রচারের ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে
বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ও বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।
মঙ্গলবার (৯ জুন) রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে টেলিভিশন জার্নালিস্ট ক্লাবের উদ্যোগে আয়োজিত ঈদ পূর্ণমিলনী ও গণমাধ্যমের চোখে আগামীর বাংলাদেশ শীর্ষক আলোচনা সভা সংগঠনের সভাপতি আর কে রেজার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ও বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।
অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, চ্যানেল এস এর সিইও সুজিত চক্রবর্তী, ঢাকা মহানগর বিএনপি সদস্য সচিব মোস্তফা জামান, সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা আরিফুল ইসলাম জিয়া প্রমুখ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন সংবাদের ভিত্তি ও সত্যতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ একটি সংবাদকে কেন্দ্র করে সমাজে যে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়, তার জন্য অনেকাংশে সেই সংবাদই দায়ী থাকে। সিটি কর্পোরেশনের কোথাও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ব্যর্থতা হলে তা সংবাদে আসে, আর আমরা সেটি দেখে দ্রুত সংশোধনের উদ্যোগ নিই। তবে অনেক সময় ভিত্তিহীন সংবাদও প্রচারিত হয়। তাই সমাজকে সামনে এগিয়ে নিতে হলে সঠিক সংবাদ প্রচারের ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে।
প্রশাসক বলেন, সাংবাদিকরা সমাজের দর্পণ। সমাজের অভ্যন্তরে যা ঘটে, দৃশ্যমান ও অদৃশ্য-সবকিছুই তারা জনগণের সামনে তুলে ধরেন। আর এ কাজের মাধ্যমে সমাজকে সংশোধন ও জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
তিনি বলেন, বর্তমানে টেলিভিশন ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার কারণে সংবাদ খুব দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। কোনো ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গেই তা টেলিভিশন ও অনলাইন মাধ্যমে মানুষের সামনে চলে আসে। এমনকি প্রিন্ট মিডিয়ার সংবাদও এখন ইলেকট্রনিক প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত হচ্ছে। ফলে সংবাদ পরিবেশনের গতি আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেড়েছে।সংবাদ সাবস্ক্রিপশন
সাংবাদিকতার নৈতিকতার প্রসঙ্গ তুলে আবদুস সালাম বলেন, সব ছবি বা সব বিষয় সংবাদ হিসেবে প্রকাশ করা উচিত কি না, সেটিও বিবেচনার বিষয়। কোনো ছবি বা তথ্য সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে কি না, সেটাও দেখতে হবে। অন্যদিকে কোনো সংবাদ বা ছবি যদি মানুষকে সচেতন ও উপকৃত করতে পারে, তাহলে তা অবশ্যই প্রকাশ করা উচিত।
বক্তারা বলেন, সাংবাদিকতার স্বাধীনতা শুধু সাংবাদিকদের ওপর নির্ভর করে না। অনেক সময় সংবাদমাধ্যমের মালিকদের সিদ্ধান্তও সেখানে প্রভাব ফেলে। তারপরও বাংলাদেশের ইতিহাসে এমন অনেক সাংবাদিক রয়েছেন, যারা সত্য প্রকাশের জন্য চাকরি হারিয়েছেন, কষ্টের জীবন কাটিয়েছেন, কিন্তু আদর্শের সঙ্গে আপস করেননি।
আবদুস সালাম আরও বলেন, সবাই যদি শুধু নিজের কথা চিন্তা করে, তাহলে সমাজের কথা কে ভাববে? একজন ব্যবসায়ী যেমন মুনাফার কথা চিন্তা করবে, তেমনি সংবাদপত্র বা সংবাদমাধ্যমকে শুধুমাত্র ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়। কিন্তু বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রেই তা হয়।
তিনি বলেন, সাংবাদিকরা সমাজের ভালো-মন্দ তুলে ধরে মানুষকে সচেতন করেন। কিন্তু সমাজের অবক্ষয়, যুবসমাজের বিপথগামিতা ও মাদকের বিস্তার রোধে সাংবাদিকরা তাদের দায়িত্ব কতটুকু পালন করতে পেরেছেন, সে প্রশ্নও আত্মসমালোচনার মাধ্যমে বিবেচনা করা উচিত।
নিজের বিবেকের কাছে জবাবদিহিতার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, “সুন্দর জীবন শুধু টাকা, গাড়ি বা বাড়ির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রকৃত সুন্দরতা মানুষের আত্মা ও বিবেকের মধ্যে। আমি যদি আমার বিবেকের কাছে স্বচ্ছ থাকতে পারি, সেটাই সবচেয়ে বড় বিষয়।