• শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ০২:০০ অপরাহ্ন
Headline
কর্ণফুলী থানার নতুন ওসি ইখতিয়ার উদ্দিন: সিএমপিতে রদবদল অবদমিত চাটগাঁর অর্থনৈতিক ফুসফুস রক্ষা: বিপিসি আন্দোলনে সাংবাদিক মুনীর চৌধুরীর আপসহীন লড়াই চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেনের দায়িত্ব গ্রহণ সাহস, দক্ষতা ও নেতৃত্বের প্রতীক সিএমপি ডিসি (নর্থ) আমিরুল ইসলাম সাংবাদিক মুনীর চৌধুরীর নেতৃত্বে তীব্র আন্দোলনের মুখে পিছু হটল বিপিসি: পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক রাজধানীর দাবিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ১২ দফা স্মারকলিপি দিল ‘সচেতন চট্টলাবাসী’. চট্টগ্রাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প সংক্রান্ত প্রতিবেদনের প্রতিবাদ: সচেতন নাগরিকবৃন্দের বক্তব্য. আনোয়ারায় ৪১৮৯ কোটি টাকার চীনা শিল্পাঞ্চল একনেকে অনুমোদন : প্রধানমন্ত্রীকে ‘সচেতন চট্টলাবাসী’র ধন্যবাদ. চট্টগ্রাম-৯ আসনের নবনির্বাচিত এমপি মোহাম্মদ আবু সুফিয়ানকে মন্ত্রিসভায় দেখতে চায় এলাকাবাসী পুলিশের সুখ দুঃখ – বাংলাদেশ পুলিশের অদৃশ্য জীবন দায়িত্বের পাহাড়ে নুয়ে পড়া এক জীবন:পুলিশের অদৃশ্য বাস্তবতা. প্রতিবাদলিপি- চট্টগ্রাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প সংক্রান্ত প্রকাশিত প্রতিবেদনের প্রতিবাদ

প্রতিবাদলিপি- চট্টগ্রাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প সংক্রান্ত প্রকাশিত প্রতিবেদনের প্রতিবাদ

Reporter Name / ২৬ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬

প্রতিবাদলিপি-
চট্টগ্রাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প সংক্রান্ত প্রকাশিত প্রতিবেদনের প্রতিবাদ

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক বাস্তবায়নাধীণ “চট্টগ্রাম শহরের লালখান বাজার হতে শাহ্-আমানত বিমানবন্দর পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ” (শহীদ ওয়াসিম আকরাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে) প্রকল্পের বিষয়ে সম্প্রতি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ফেসবুক পোস্ট, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম এবং কিছু গণমাধ্যমে সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন, বিভ্রান্তিকর ও ভুল তথ্য প্রচার করা হচ্ছে। উক্ত অভিযোগের বিষয়ে আলোচ্য প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক হিসেবে আমি মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান সুস্পষ্টীকরণ ব্যাখ্যা নিম্নে উপস্থাপন করছি।
♦️অভিযোগ-১ :
১৯৩ কোটি টাকার ভেরিয়েশন প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করে অনুমোদন করার মাধ্যমে অর্থ ভাগাভাগি করার জন্য পায়তারা করা।
ব্যাখ্যা : আলোচ্য অভিযোগটি সম্পূর্ণ ভুল, মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর।অনুমোদিত ২য় সংশোধিত ডিপিপি অনুযায়ী প্রকল্পের নিয়োজিত পরামর্শক প্রতিষ্ঠান DDC-SARM-DPM-HNRBI (JV) এবং ভেটিং পরামর্শক প্রতিষ্ঠান Centre for Advisory & Testing Services Military Institute of Science & Technology (CATS-MIST) কর্তৃক প্রণীত ড্রয়িং ডিজাইনের আলোকে এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ কাজটি সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে বেশকিছু দরপত্রভুক্ত আইটেম ও ইতোপূর্বে অনুমোদিত ১ম ভেরিয়েশনের নন-টেন্ডার আইটেমের হাস/বৃদ্ধিসহ নতুন কিছু আইটেম অন্তর্ভুক্ত করার এবং পিপিআর-২০০৮ এর বিধি ৫ (সংযুক্তি-১), দরপত্র দলিলের ITT Clause No. 27.8 & 27.9 (সংযুক্তি-২), ঠিকাদারের সহিত সম্পাদিত চুক্তির GCC & PCC Clause No. 69.1 (সংযুক্তি-৩) ও অনুমোদিত ২য় সংশোধিত ডিপিপির সংস্থান (সংযুক্তি-৪) অনুযায়ী Price Adjustment এর প্রয়োজনীয়তা দেখা দেওয়ায়, কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে ১৬৩,৯৯,৩০,৪০১,৬৮ টাকার ভেরিয়েশন প্রস্তাব চউকের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী-২ জনাব এ, এ, এম. হাবিবুর রহমান, প্রধান প্রকৌশলী জনাব আহমেদ আনোয়ারুল নজরুল, সদস্য (প্রকৌশল ও পরিকল্পনা) জনাব মোঃ জামিলুর রহমান, চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মোঃ নুরুল করিম এর অনুমোদনক্রমে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয় (সংযুক্তি-৫)।
মন্ত্রণালয় কর্তৃক ২য় ভেরিয়েশন প্রস্তাবটির যথার্থতা নিরূপণের লক্ষ্যে সরেজমিনে তদন্তপূর্বক সুষ্পষ্ট মতামতসহ প্রতিবেদন দাখিলের জন্য গণপূর্ত অধিদপ্তরকে অনুরোধ করা হয় (সংযুক্তি-৬)। তৎপ্রেক্ষিতে গণপূর্ত অধিদপ্তর কর্তৃক ২ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয় (সংযুক্তি-৭) এবং উক্ত কমিটির মতামতের যথার্থতা নিরুপনের জন্য আরো একটি ৩ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয় (সংযুক্তি-৮)। ২ সদস্য ও ৩ সদস্যের তদন্ত প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে দাখিল করা হলে (সংযুক্তি-৯), মন্ত্রণালয় কর্তৃক জনস্বার্থে ২য় ভেরিয়েশনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে কি-না সে বিষয়ে সরেজমিনে তদন্তপূর্বক সুষ্পষ্ট মতামতসহ পুনরায় প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য গণপূর্ত অধিদপ্তরকে অনুরোধ করা হয় (সংযুক্তি-১০)। তৎপ্রেক্ষিতে গণপূর্ত অধিদপ্তর কর্তৃক ৫ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয় (সংযুক্তি-১১) এবং উক্ত কমিটি কর্তৃক “সামগ্রিক বিবেচনায় জনস্বার্থে প্রকল্পের ১৬৩,৯৯,৩০,৪০১.৬৮ টাকার ২য় ভেরিয়েশন প্রস্তাবটি যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে প্রণয়ন করা হয়েছে” মর্মে মতামত প্রদান করা হয় (সংযুক্তি-১২)। ৫ সদস্যের তদন্ত প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে দাখিল করা হলে (সংযুক্তি-১৩), মন্ত্রণালয় থেকে ঠিকাদারের সহিত সম্পাদিত চুক্তির প্রথম থেকেই মূল্য সমন্বয় না করে, চুক্তি Effective হওয়ার ১৯তম মাস থেকে Price adjustment Calculation করে Variation প্রস্তাব সমন্বয়পূর্বক পুনরায় পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাব প্রেরণের জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হয় (সংযুক্তি-১৪)। উক্ত নির্দেশনা অনুযায়ী চুক্তির শুরু হতে ১৮ মাসের Price Adjustment বাবদ ১৯,৩৬,৭০,৩৮১.৭৯ টাকা বাদ দিয়ে মোট ১৪৪,৬২,৬০,০১৯.৯০ টাকার ভেরিয়েশন প্রস্তাব আলোচ্য প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ও চউকের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী-২ জনাব এ, এ, এম. হাবিবুর রহমান, প্রধান প্রকৌশলী জনাব আহমেদ আনোয়ারুল নজরুল, সদস্য (প্রকৌশল ও পরিকল্পনা) জনাব মোঃ জামিলুর রহমান, চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মোঃ নুরুল করিম এর অনুমোদনক্রমে মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয় (সংযুক্তি-১৫)।
মন্ত্রণালয় কর্তৃক চউকের নতুন যোগদানকৃত কর্মকর্তাদের মাধ্যমে পরীক্ষা-নিরীক্ষাপূর্বক চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এর বোর্ড সভায় আলোচনা করে মতামতসহ স্বয়ংসম্পূর্ণ প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে প্রেরণের জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হয় (সংযুক্তি-১৬)। তৎপ্রেক্ষিতে চউক কর্তৃক ৫ সদস্য বিশিষ্ট ভেরিয়েশন যাচাই-বাছাই কমিটি গঠন করা হয় (সংযুক্তি-১৭) এবং উক্ত কমিটি “সার্বিক বিবেচনায় প্রস্তাবিত ১৬৩,৯৯,৩০,৪০১.৬৮ টাকার ২য় ভেরিয়েশনটি প্রকল্প সমাপ্ত করার লক্ষ্যে প্রচলিত আইন ও প্রক্রিয়া অনুসরন করে প্রনয়ন করা হয়েছে” মর্মে মতামত প্রদান করা হয় (সংযুক্তি-১৮)। পরবর্তীতে চউকের ৪৬৯তম বোর্ড সভায় উপস্থাপন করা হলে, আলোচ্য ভেরিয়শন প্রস্তাবটি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে প্রেরণের ক্ষেত্রে চউক বোর্ডের কোন আপত্তি নেই মর্মে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় (সংযুক্তি-১৯)এবং তদানুযায়ী ১৬৩,৯৯,৩০,৪০১.৬৮ টাকার ভেরিয়েশন প্রস্তাব পুনরায় মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয় (সংযুক্তি-২০)।কিন্তু মন্ত্রণালয় কর্তৃক ইতোপূর্বে প্রেরিত ১৪৪,৬২,৬০,০১৯.৯০ টাকার ভেরিয়েশন প্রস্তাবটি সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদনের নিমিত্ত প্রেরণের জন্য উপস্থাপন করা হয়।
এছাড়াও, “প্রকল্পের ডিপিডি জনাব আসাদ বিন আনোয়ার ও সহকারী প্রকৌশলী জনাব মোঃ ইকবাল হোসেন ঠিকাদারের নথি স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানান” মর্মে ভুল তথ্য প্রচার করা হয়েছে, যা সঠিক নয়। উক্ত প্রকৌশলীদ্বয় নিয়মিত প্রকল্পের তদারকি করেন এবং সম্পাদিত কাজের বিপরীতে ঠিকাদারের বিল পরিশোধ করে থাকেন। এছাড়াও প্রস্তাবিত ভেরিয়েশনটিও উক্ত প্রকৌশলী মহোদয়ের স্বাক্ষর নিয়ে প্রেরণ করা হয়েছে (সংযুক্তি-২১)। তাছাড়া উক্ত দুইজন প্রকৌশলী প্রকল্পের শুরু হতে দায়িত্ব পালন করে আসছেন এবং তাদের ছাড়া বিকল্প প্রকৌশলী দিয়ে প্রকল্পের কাজের বিল পরিশোধ করার সুযোগ নেই।
অতএব, ১৯৩ কোটি টাকার ভেরিয়েশন প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করে অনুমোদন করার মাধ্যমে অর্থ ভাগাভাগি করার জন্য পায়তারা করার অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং বিভ্রান্তিকর। তথ্যের যথাযথ যাচাই-বাছাই ব্যতিরেকে এ ধরনের অভিযোগ প্রচার ও প্রকাশের ফলে প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমানসহ প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ও সুনাম ক্ষুণ্ন করা হচ্ছে, যা খুবই দুঃখজনক।
♦️অভিযোগ-২ :
প্রকল্পের ১ম সংশোধিত ডিপিপি অনুমোদনের মাধ্যমে ১০৪৮ (এক হাজার আটচল্লিশ) কোটি টাকা লুটপাট।
ব্যাখ্যা : আলোচ্য অভিযোগটি সঠিক নয়। প্রকল্পটি ৩২৫০৮৩.৯৪ লক্ষ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে বাস্তবায়নের জন্য গত ১১/০৭/২০১৭ তারিখে একনেক কর্তৃক অনুমোদিত হয় (সংযুক্তি-১)। ডিপিপি অনুমোদিত হওয়ার পর উক্ত প্রকল্পের নির্মাণ কাজের টেন্ডার ড্রয়িং ডিজাইন প্রণয়ন, টেন্ডার ডকুমেন্ট ও প্রাক্কলন (Cost Estimate) প্রস্তুত, ওয়ারকিং ড্রয়িং ডিজাইন প্রণয়ন, প্রকল্পের কাজ সরজমিনে সুপারভিশন এবং প্রকল্পে ব্যবহৃত উপকরণ ও কাজের গুণগত মান নিয়ন্ত্রণ ও কাজের পরিমান নির্ধারণের জন্য সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনক্রমে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হিসেবে DDC-SARM-DPM-HNRBI (JV)-নিয়োগ হয় (সংযুক্তি-২) এবং প্রকল্পের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রস্তুতকৃত লালখান বাজার থেকে শাহ-আমানত বিমানবন্দর পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ডিটেইল্ড ফাউন্ডেশন ডিজাইন ও সুপারস্ট্রাকচার ডিজাইনসমূহ ভেটিং করার জন্য বাংলাদেশ সেনা বাহিনীর প্রতিষ্ঠান Center for Advisory and Testing Services (CATS), Military Institute of Science and Technology (MIST)-কে নিয়োগ করা হয় (সংযুক্তি-৩)। উক্ত ভেটিং টীমে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এর অবসরপ্রাপ্ত বিশেষজ্ঞ প্রফেসরসহ জনাব ড. সেকান্দার আলী, জনাব ড. আহসানুল কবির, জনাব ড. সৈয়দ ফখরুল আমিন এবং জনাব ড. মোঃ জয়নুল আবেদিন নিয়োজিত আছেন (সংযুক্তি-৪)।
সরজমিনে প্রকল্পের নির্মাণ কাজ শুরু করা হলে প্রকল্পের Starting Point তথা লালখান বাজার হতে প্রকল্পের শেষ প্রান্ত অর্থাৎ বিমানবন্দর পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় পারিপার্শিক অবস্থার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ (কর্ণফুলী টানেল প্রকল্প), বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, কেইপিজেড, সিইপিজেড ও বিভিন্ন সংস্থার সাথে সমন্বয়ের ফলে প্রকল্পের নিয়োজিত পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এবং ভেটিং পরামর্শক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক নতুনভাবে Alignment ও Design প্রণয়ন করা হয়। উক্ত Alignment ও Design অনুযায়ী প্রকল্পের অঙ্গভিত্তিক ব্যয় হ্রাস/বৃদ্ধি ও নতুন আইটেম অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেওয়া, প্রকল্পের ১ম সংশোধিত ডিপিপি প্রণয়ন করে মন্ত্রণালয়ে প্রেরন করা হয় এবং মন্ত্রণালয় কর্তৃক যাচাই-বাছাই করে পরিকল্পনা কমিশনে প্রেরণ করা হয়। পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য মহোদয়ের এর সভাপতিত্বে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হয় এবং পিইসি সভার সিদ্ধান্তের (সংযুক্তি-৫) আলোকে পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তাগণ সরজমিনে প্রকল্পের সাইট পরিদর্শনপূর্বক (সংযুক্তি-৬) প্রকল্পের ১ম সংশোধনী ব্যয় মোট ৪২৯৮৯৫.১১ লক্ষ টাকা নির্ধারণ করা হয়। পরবর্তীতে পরিকল্পনা কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত ৪২৯৮৯৫.১১ লক্ষ টাকার ১ম সংশোধিত ডিপিপিটি গত ১৩/০৯/২০২২ তারিখে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় অনুমোদিত হয় (সংযুক্তি-৭)। এতে মূল ডিপিপি হতে অনুমোদিত ১ম সংশোধিত ডিপিপিতে প্রকল্পের ব্যয় ১০৪৮১১.১৭ লক্ষ টাকা বৃদ্ধি পায়।
উল্লেখ্য, এ ব্যয়বৃদ্ধি প্রকল্পের Alignment ও Design অনুযায়ী বর্ধিত অতিরিক্ত কাজ, নতুন আইটেম সংযোজন এবং সংশ্লিষ্ট কারিগরি ও বাস্তবিক প্রয়োজনের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়েছে, যা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বহুমাত্রিক যাচাই-বাছাই ও অনুমোদন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চূড়ান্ত হয়েছে। অতএব, প্রকল্পের ১ম সংশোধিত ডিপিপি অনুমোদনের মাধ্যমে ১,০৪৮ (এক হাজার আটচল্লিশ) কোটি টাকা লুটপাট করার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বিভ্রান্তিকর। প্রকল্পের ব্যয়বৃদ্ধি প্রকল্পের বাস্তব প্রয়োজন, কারিগরি যৌক্তিকতা এবং প্রচলিত সরকারি বিধি-বিধান অনুসরণ করেই তা নির্ধারিত ও অনুমোদিত হয়েছে। তথ্যের যথাযথ যাচাই-বাছাই ব্যতিরেকে এ ধরনের অভিযোগ প্রচার ও প্রকাশের ফলে প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমানসহ প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ও সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে।
♦️অভিযোগ-৩ :
বিদ্যুতের খুঁটি সরাতে ১৩০ কোটি টাকা গায়েব” বা “অর্থ আত্মসাৎ/লুটপাট
ব্যাখ্যা : আলোচ্য অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বিভ্রান্তিকর। প্রকল্পের সী-বিচ হতে ওয়াসা মোড় পর্যন্ত অ্যালাইনমেন্টের আওতাধীন বিউবোর ৩৩/১১/০.৪ কেভি বিদ্যুৎ পোল, লাইন, উপকেন্দ্র এবং রোড ক্রসিং লাইনসমূহ স্থানান্তরপূর্বক আন্ডারগ্রাউন্ড পদ্ধতিতে প্রতিস্থাপনের কাজ জমাভিত্তিক কাজ হিসেবে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো) এর মাধ্যমে সম্পাদন করা হয়।
প্রকল্পের নির্মাণকাজ শুরুর প্রাক্কালে, ১৬/০৬/২০১৯ তারিখে লালখান বাজার হতে হালিশহর পর্যন্ত বৈদ্যুতিক লাইন স্থানান্তরের জন্য ১০১,৪৫,৮২,২৫০.৬২ টাকা (সংযুক্তি-১) এবং হালিশহর হতে কর্ণফুলী টানেলের মুখ পর্যন্ত বৈদ্যুতিক লাইন স্থানান্তরের জন্য ১১৮,৭৫,৩৯,০৯৩.০০ টাকাসহ (সংযুক্তি-২) সর্বমোট ২২০,২১,২১,৩৪৩.৬২ টাকার প্রাক্কলন চউক বরাবর দাখিল করা হয়। তবে প্রাক্কলিত ব্যয় অনুমোদিত ডিপিপিতে সংস্থানকৃত অর্থের তুলনায় অধিক হওয়ায় এককালীন অর্থ প্রদান সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে ধাপে ধাপে বিউবোর অধীনস্থ দপ্তর যথা হালিশহর, আগ্রাবাদ, নিউমুরিং, খুলশী ও স্টেডিয়াম দপ্তরের চাহিদার প্রেক্ষিতে চউক কর্তৃক সমন্বয় বিল দাখিলের শর্তে বিভিন্ন সময়ে সর্বমোট ১৩১,৩৫,৭২,৫০২.০০ (একশত একত্রিশ কোটি পঁয়ত্রিশ লক্ষ বাহাত্তর হাজার পাঁচশত দুই) টাকা প্রদান করা হয় (সংযুক্তি-৩)। উক্ত ১৩১,৩৫,৭২,৫০২.০০ টাকার মধ্যে সমাপ্তকৃত কাজসমূহের সমন্বয় বিল দাখিলের জন্য বিউবো বরাবর পত্র প্রেরণ করা হলে (সংযুক্তি-৪), সম্পাদিত কাজের বিপরীতে বিউবোর খুলশী, হালিশহর ও নিউমুরিং দপ্তর কর্তৃক সমন্বয় বিল দাখিল করা হয়। উক্ত সমন্বয় বিল অনুযায়ী দেখা যায়, কাজ সম্পাদনের পর খুলশী দপ্তরে ১,২৭,৫২,২৬০.৫৮ টাকা (সংযুক্তি-৫), হালিশহর দপ্তরে ৩,০৭,৯৫,০৯৭.০০ টাকা (সংযুক্তি-৬), নিউমুরিং দপ্তরে ৪১,৭৫,০৪৬.৯৩ টাকা (সংযুক্তি-৭), সহ সর্বমোট ৪,৭৭,২২,৪০৪.৫১ টাকা উদ্বৃত্ত রয়েছে। ইতোমধ্যে উক্ত উদ্বৃত্ত চউক বরাবর ফেরত প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরসমূহকে পত্র প্রদান করা হয়েছে (সংযুক্তি-৮)। কিন্তু বিউবোর আগ্রাবাদ ও স্টেডিয়াম দপ্তরের আওতাধীন স্থানান্তর কাজ এখনও চলমান থাকায় অদ্যাবধি উক্ত দপ্তরদ্বয় কর্তৃক সমন্বয় বিল দাখিল করা হয়নি।
প্রকৃতপক্ষে, আলোচ্য ব্যয় শুধুমাত্র বিদ্যুতের খুঁটি অপসারণের জন্য ব্যয় করা হয়নি। প্রকল্পের অ্যালাইনমেন্টজুড়ে বিদ্যমান ৩৩/১১/০.৪ কেভি বিদ্যুৎ লাইন, উপকেন্দ্র, রোড ক্রসিং লাইন এবং সংশ্লিষ্ট বৈদ্যুতিক অবকাঠামো স্থানান্তর ও আন্ডারগ্রাউন্ড পদ্ধতিতে প্রতিস্থাপনের জন্য বিউবো কর্তৃক প্রণীত প্রাক্কলনের ভিত্তিতে জমাভিত্তিক কার্যক্রম হিসেবে ব্যয় করা হয়েছে। উক্ত কার্যক্রম সম্পূর্ণরূপে বিউবোর মাধ্যমে বাস্তবায়িত হচ্ছে এবং ব্যয়ের হিসাবও সংশ্লিষ্ট দপ্তরসমূহ কর্তৃক সমন্বয় বিলের মাধ্যমে নিরূপিত হচ্ছে।
অতএব, “বিদ্যুতের খুঁটি সরাতে ১৩০ কোটি টাকা গায়েব” বা “অর্থ আত্মসাৎ/লুটপাট” করার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বিভ্রান্তিকর। তথ্যের যথাযথ যাচাই-বাছাই ব্যতিরেকে এ ধরনের অভিযোগ প্রচার ও প্রকাশের মাধ্যমে ফলে প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমানসহ প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা করা হচ্ছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
♦️অভিযোগ-৪ :
টোল ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম ও টোলের অর্থ আত্মসাৎ
ব্যাখ্যা : আলোচ্য অভিযোগ সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বিভ্রান্তিকর। আলোচ্য প্রকল্পের আওতায় নির্মিত সী-বিচ হতে ওয়াসা মোড় পর্যন্ত প্রায় ১৫ কি.মি. (কম/বেশি) দীর্ঘ চার লেইন বিশিষ্ট মূল এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েটি “শহীদ ওয়াসিম আকরাম উড়াল সড়ক” নামে নামকরন করে গত ০৩/০১/২০২৫ খ্রি: তারিখ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপদেষ্টা কর্তৃক টোল আদায় কার্যক্রম উদ্বোধনের মাধ্যমে যানচলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। উল্লেখ্য যে, টোল আদায়ে ব্যবহৃত সফটওয়্যারটি ঠিকাদার কর্তৃক চউকের সিস্টেম এনালিস্ট -কে বুঝিয়ে দেওয়া হয় এবং উক্ত দপ্তর হতে টোল অপারেশনের যাবতীয় কাজ মনিটরিং করা হয়।
উক্ত সময় হতে প্রকল্পের নিয়োজিত পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে টোল আদায়ের জনবল সরবরাহ করে টোল আদায় কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে এবং চউকের চেয়ারম্যান, সচিব ও সিস্টেম এনালিস্ট এর তত্ত্বাবধানে টোল আদায়ের সম্পূর্ণ কার্যক্রম তদারকি করা হচ্ছে। আদায়কৃত টোলের অর্থ কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী Eastern Bank PLC এর মাধ্যমে সংরক্ষণ করা হচ্ছে।
দৈনিক গড়ে ৮৭০০টি যানবাহন উক্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহার করছে এবং প্রতিদিন গড়ে ৬,১৬,০০০/- টাকা টোল সংগ্রহ করা হচ্ছে।
টোল আদায় কাজের সাথে প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমানসহ প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সংশ্লিষ্টতা নেই। টোল আদায় কার্যক্রমে প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমানসহ প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কোন সংশ্লিষ্টতা না থাকায় শর্তেও টোল চুরি বা অনিয়মের অভিযোগ করা হচ্ছে যা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা