• রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ০৬:১৬ অপরাহ্ন
Headline
সাংবাদিকতার আড়ালে সাইবার ব্ল্যাকমেইল? ‘সংবাদ প্রকাশের ভয়’ দেখিয়ে অর্থ দাবির অভিযোগ ফেসবুক পেজ PSP Vision-এর বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)-এর নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান মনোনীত হওয়ায় ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেনকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন শীর্ষ নেতৃত্বহীন সাড়ে তিন মাস: কার্যত অচল নখদন্তহীন দুদক, স্তূপ হচ্ছে হাজারো অভিযোগ কোনো ধরনের হয়রানি, অসহযোগিতা বা দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি:সিডিএ চেয়ারম্যান. ইন্টারন্যাশনাল মিডিয়া ডিজিটাল অনলাইনে সারাদেশে দক্ষ ও সৃজনশীল প্রতিনিধি নিযোগ. সংকটময় পরিস্থিতিতে পেশাদারিত্বের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত, সাহস, দক্ষতা ও নেতৃত্বের প্রতীক নতুন দায়িত্বে ডিসি আমিরুল ইসলাম. অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ওয়াহিদুল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যা প্রচারণার নিন্দা কর্ণফুলী থানার নতুন ওসি ইখতিয়ার উদ্দিন: সিএমপিতে রদবদল অবদমিত চাটগাঁর অর্থনৈতিক ফুসফুস রক্ষা: বিপিসি আন্দোলনে সাংবাদিক মুনীর চৌধুরীর আপসহীন লড়াই চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেনের দায়িত্ব গ্রহণ

শীর্ষ নেতৃত্বহীন সাড়ে তিন মাস: কার্যত অচল নখদন্তহীন দুদক, স্তূপ হচ্ছে হাজারো অভিযোগ

Reporter Name / ২৭ Time View
Update : রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬

শীর্ষ নেতৃত্বহীন সাড়ে তিন মাস: কার্যত অচল নখদন্তহীন দুদক, স্তূপ হচ্ছে হাজারো অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক-
দেশের একমাত্র ও প্রধান দুর্নীতিবিরোধী রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) গত সাড়ে তিন মাস ধরে সম্পূর্ণ নেতৃত্বহীন ও অচল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। গত ৩ মার্চ কমিশনের চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনারের একযোগে পদত্যাগের পর থেকে সংস্থাটির শীর্ষ নীতি-নির্ধারণী পদগুলো শূন্য। এর ফলে আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে নতুন কোনো মামলার অনুমোদন, তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল কিংবা চার্জশিট গঠনের মতো মৌলিক কাজগুলো সম্পূর্ণ থমকে গেছে। একদিকে যেমন প্রতিদিন নতুন নতুন দুর্নীতির অভিযোগ জমা পড়ে স্তূপ হচ্ছে, অন্যদিকে পূর্বের বড় বড় দুর্নীতিবাজ ও অর্থ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে চলমান অনুসন্ধানগুলোও চূড়ান্ত অনুমোদনের অভাবে হিমাগারে চলে গেছে।
আইনি ফাঁদে অবরুদ্ধ সংস্থা
দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ অনুযায়ী, নতুন কোনো অনুসন্ধান শুরু করা, মামলা দায়ের, চার্জশিট অনুমোদন, সম্পত্তি জব্দ কিংবা সন্দেহভাজনদের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার জন্য ন্যূনতম ২ জন কমিশনারের স্বাক্ষর বা কমিশনের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন বাধ্যতামূলক। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে গত বছরের ১০ ডিসেম্বর নিয়োগ পাওয়া কমিশন রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গত ৩ মার্চ পদত্যাগ করে। আইন অনুযায়ী পদত্যাগের ৩০ দিনের মধ্যে নতুন কমিশন গঠনের কথা থাকলেও তা করা হয়নি। অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে দুদকের সচিবের ক্ষমতা বাড়ানোর একটি আইনি উদ্যোগ নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। ফলে কমিশনের অভাবে মহাপরিচালক বা পরিচালক পর্যায়ের কর্মকর্তারা ফাইল প্রস্তুত করে রাখলেও তা অনুমোদনের কোনো সুযোগ থাকছে না।
আলামত নষ্ট ও সম্পদ হাতবদল হওয়ার আশঙ্কা
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশ থেকে প্রায় ২৯ লাখ কোটি টাকা বা ২৬০ বিলিয়ন ডলার পাচারের যে তথ্য শ্বেতপত্র কমিটি দিয়েছিল, তার একটি বড় অংশের তদন্ত দুদকের হাতে ছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে কমিশন নিষ্ক্রিয় থাকায় এই তদন্তগুলো থমকে আছে। দুদকের সাবেক মহাপরিচালক মঈনুল ইসলাম এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, এই দীর্ঘ অচলাবস্থার সুযোগ নিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা তাদের অবৈধ স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি গোপনে বিক্রি বা স্থানান্তর করে দিচ্ছে এবং অনেক গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ও আলামত চিরতরে ধ্বংস করে ফেলছে। এতে আন্তর্জাতিক দুর্নীতির ধারণাসূচকেও (CPI) বাংলাদেশের অবস্থান আরও নিচে নেমে যাওয়ার প্রবল আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ঝুলে আছে হাজারো নথি: ভুক্তভোগীদের দীর্ঘশ্বাস
দুদক প্রধান কার্যালয় ও বিভিন্ন সমন্বিত জেলা কার্যালয় (সজেকা) সূত্রে জানা গেছে, মাঠপর্যায়ে অনুসন্ধান শেষ হওয়া প্রায় ৭ হাজার ফাইলের ভাগ্য এখন ঝুলে আছে। নতুন কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট অবরুদ্ধ (ফ্রিজ) করা যাচ্ছে না। প্রতিদিন অসংখ্য ভুক্তভোগী দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট তথ্য নিয়ে দুদক কার্যালয়ে এলেও কর্মকর্তারা কেবল তা জমা নিয়ে রাখছেন, কোনো আইনি ব্যবস্থা নিতে পারছেন না। সংস্থাটির উপপরিচালক (জনসংযোগ) সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে, কমিশন না থাকায় নতুন কোনো আইনি প্রক্রিয়া বা চার্জশিট অনুমোদনের সুযোগ বর্তমানে নেই।
দীর্ঘ বিলম্বের পর সার্চ কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া
দীর্ঘ সাড়ে তিন মাস পর অবশেষে সরকারের পক্ষ থেকে কিছুটা তৎপরতা দেখা গেছে। গত ১৫ ও ১৬ জুন জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন যে, দুদক পুনর্গঠনে সার্চ কমিটি গঠনের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। প্রধান বিচারপতির পক্ষ থেকে সার্চ কমিটির জন্য সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. রেজাউল হক এবং হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি রাজিক আল জলিলের নাম সুপারিশ করে পাঠানো হয়েছে। ৫ সদস্যের এই সার্চ কমিটি দ্রুতই প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশ করা হবে এবং তারা পরবর্তী চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের নাম রাষ্ট্রপতির কাছে প্রস্তাব করবেন।
বিশেষজ্ঞদের মত
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এই পরিস্থিতির সমালোচনা করে বলেন, রাজনৈতিক পালাবদলের সাথে সাথে রাষ্ট্রীয় স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোকে অচল করে দেওয়ার এই সংস্কৃতি বন্ধ হতে হবে। দুদককে সম্পূর্ণ স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও পেশাদার ব্যক্তিদের মাধ্যমে পুনর্গঠন না করলে এবং রাজনৈতিক প্রভাব থেকে মুক্ত না রাখলে দুর্নীতির লাগাম টানা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।
জনগণ আশা করছে, সরকার আর এক মুহূর্ত সময় নষ্ট না করে পেশাদার, সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়ে দ্রুত দুদক কমিশন গঠন করবে এবং দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা