দুই সপ্তাহের আল্টিমেটাম “সচেতন চট্টলাবাসী”মন্ত্রীর ঘোষনা অমান্য করে বিপিসি ঢাকায় হস্তান্তরের গোপন চিটি চেয়ারম্যানের অপসারণ দাবী.
দুই সপ্তাহের আল্টিমেটাম “সচেতন চট্টলাবাসী”র
বিপিসির প্রধান কার্যালয় চট্টগ্রামেই রাখতে হবে; অভিযোগের তদন্ত ও চেয়ারম্যানের অপসারণ দাবি
নিজস্ব প্রতিবেদক | চট্টগ্রাম
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)-এর প্রধান কার্যালয় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় স্থানান্তরের উদ্যোগের অভিযোগকে কেন্দ্র করে আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে চট্টগ্রামের নাগরিক অঙ্গন। নাগরিক সংগঠন সচেতন চট্টলাবাসী অভিযোগ করেছে, সরকারের নীতিগত ঘোষণার পরও বিপিসির চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান প্রধান কার্যালয় ঢাকায় স্থানান্তরের সুপারিশ করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন। এ ঘটনায় তারা নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা এবং চেয়ারম্যানের অপসারণ দাবি করেছে।
সংগঠনটি জানিয়েছে, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে চট্টগ্রামের রাজনৈতিক, সামাজিক, পেশাজীবী, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক এবং সর্বস্তরের নাগরিকদের নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী পূর্বে প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, বিপিসির প্রধান কার্যালয় চট্টগ্রামেই থাকবে। ওই ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে সচেতন চট্টলাবাসী পূর্বঘোষিত মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি স্থগিত করেছিল। কিন্তু সংগঠনের দাবি, পরবর্তীতে গত ১৭ জুন প্রধান কার্যালয় ঢাকায় স্থানান্তরের সুপারিশ করে নতুন করে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে তারা অবগত হয়েছে, যা নতুন করে উদ্বেগ ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
দেশের একমাত্র তেল শোধনাগার, প্রধান সমুদ্রবন্দর এবং জ্বালানি খাতের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো চট্টগ্রামকেন্দ্রিক। এছাড়া চট্টগ্রামে বিপিসির নতুন কার্যালয় নির্মাণে ৫০ কোটি টাকা খরচ হয়েছে রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যয় হয়েছে। এ অবস্থায় প্রধান কার্যালয় স্থানান্তরের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে তা জনস্বার্থ, রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ এবং চট্টগ্রামের বাণিজ্যিক গুরুত্বের পরিপন্থী হবে বলে তারা মনে করে।
সচেতন চট্টলাবাসী দাবি করেছে, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে চট্টগ্রামে নির্মিত বিপিসির ভবনে দ্রুত কার্যক্রম শুরু, বাকলিয়ায় স্থায়ী আধুনিক প্রধান কার্যালয় নির্মাণ এবং চট্টগ্রামের বাণিজ্যিক মর্যাদা রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক মুনীর চৌধুরী এবং সদস্য সচিব নোমান উল্লাহ বাহার বলেন, “চট্টগ্রামের ন্যায্য অধিকার ও জাতীয় অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় আমরা শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক কর্মসূচি পালন করছি। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ না এলে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।”
ধন্যবাদান্তে
মুনীর চৌধুরী
আহ্বায়ক, সচেতন চট্টলাবাসী
নোমান উল্লাহ বাহার
সদস্য সচিব, সচেতন চট্টলাবাসী
মোবাইল: ০১৯৭২-০৪২০০৪
ই-মেইল: mchypd@gmail.com