আমলাতন্ত্রের বিরুদ্ধে চাটগাঁর অধিকারের জয়: বিপিসি রক্ষা আন্দোলনের মহানায়ক সাংবাদিক মুনীর চৌধুরী ও সচেতন চট্টলাবাসীর বীরত্বগাথা
বিপিসি রক্ষা আন্দোলন: চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক স্বাধিকার ও এক অনমনীয় নায়কের উপাখ্যান।
বিশেষ প্রতিবেদক
চট্টগ্রামকে বলা হয় বাংলাদেশের অর্থনৈতিক হৃৎপিণ্ড ও বাণিজ্যিক রাজধানী। দেশের প্রধান আমদানি বন্দর, একমাত্র রাষ্ট্রীয় জ্বালানি তেল শোধনাগার (ইস্টার্ন রিফাইনারি) এবং প্রধান বিপণন কোম্পানিগুলোর (পদ্মা, মেঘনা, যমুনা) মূল চালিকাশক্তি এই চট্টগ্রামেই অবস্থিত। কিন্তু বারবার এই চট্টগ্রামের সম্পদ ও সরকারি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরগুলো ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার এক অদৃশ্য আমলাতান্ত্রিক চক্রান্ত আমরা লক্ষ্য করেছি। এমন এক সংকটের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছিল বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। যখন বিপিসিকে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় পাচারের সব বন্দোবস্ত চূড়ান্ত, ঠিক তখনই চাটগাঁর স্বার্থ রক্ষায় ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন একজন মানুষ—তিনি আন্তর্জাতিক মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ও লড়াকু সাংবাদিক মুনীর চৌধুরী। ‘সচেতন চট্টলাবাসী’র ব্যানারে গড়ে ওঠা সেই গণআন্দোলন আজ চট্টগ্রামের কোটি মানুষের অধিকারের প্রতীক।
কেন বিপিসি চট্টগ্রামে থাকা জরুরি?
চট্টগ্রামের ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব বিবেচনা করলে বিপিসি এই অঞ্চলের জন্য অপরিহার্য। এই যৌক্তিকতার পেছনে প্রধান কারণগুলো হলো:
* অর্থনৈতিক সুবিধা: চট্টগ্রাম বাংলাদেশের বাণিজ্য, জ্বালানি এবং শিল্পের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু।
* কর্মসংস্থান: এর সাথে জড়িয়ে আছে হাজারো মানুষের কর্মসংস্থান ও আঞ্চলিক অর্থনীতির উন্নয়ন।
* বন্দর ও জ্বালানি খাতের সমন্বয়: চট্টগ্রাম বন্দর, এলএনজি (LNG) টার্মিনাল এবং জ্বালানি খাতের সাথে সহজ ও দ্রুত সমন্বয় সাধন।
* আঞ্চলিক উন্নয়ন: দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের সামগ্রিক উন্নয়ন ও নতুন বিনিয়োগ বৃদ্ধি।
* চট্টগ্রামের অধিকার: এটি চট্টগ্রামवासियों ন্যায্য অধিকার ও দীর্ঘদিনের যৌক্তিক দাবি।
আন্দোলনের ধারাবাহিকতা ও আমলাতান্ত্রিক চক্রান্তের ইতিহাস
এই সফল আন্দোলনের পেছনে রয়েছে এক দীর্ঘ ও নাটকীয় ঘটনাক্রম, যা আমলাতন্ত্রের ভেতরের রূপটি উন্মোচন করে:
১. চক্রান্তের শুরু: বিপিসির প্রধান কার্যালয় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় স্থানান্তরের গোপন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।
২. আন্দোলনের ডাক: এই অন্যায় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ‘সচেতন চট্টলাবাসী’র ব্যানারে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব চত্বরে তীব্র আন্দোলনের ডাক দেন সাংবাদিক মুনীর চৌধুরী।
৩. মন্ত্রীর ঐতিহাসিক ঘোষণা: তীব্র গণআন্দোলনের মুখে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী স্পষ্ট ঘোষণা দেন—”বিপিসি চট্টগ্রামেই থাকবে।”
৪. আন্দোলন স্থগিত: মন্ত্রীর সেই আশ্বাসের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সাংবাদিক মুনীর চৌধুরী আন্দোলন সাময়িকভাবে স্থগিত করেন।
৫. ১২ দফা দাবিতে স্মারকলিপি: চট্টগ্রামকে পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক রাজধানী করার ১২ দফা দাবিতে তৎকালীন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়
৬. গোপন চক্রান্ত ফাঁস: অর্থ মন্ত্রীর আশ্বাসের পরও বিপিসি চেয়ারম্যান গোপনে দপ্তরটি ঢাকায় স্থানান্তরের জন্য চিঠি পাঠান। এই গোপন চক্রান্ত ও চরম বিশ্বাসঘাতকতার খবরটি সাংবাদিক মুনীর চৌধুরীই প্রথম সম্পূর্ণ দালিলিক প্রমাণসহ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী কে অবহিত করেন।
৭. প্রতিবাদ ও পদত্যাগের দাবি: প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর ও অর্থ মন্ত্রণালয়কে বিষয়টি অবহিত করার পাশাপাশি তিনি এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রথম গর্জে ওঠেন। তিনি একা বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে বিপিসি চেয়ারম্যানের পদত্যাগ দাবি করেন এবং ঘোষণা দেন—”বিপিসি চাটগাঁর মাটি ছেড়ে কোথাও যাবে না।”
৮. চূড়ান্ত বিজয়: এই অনমনীয় সংগ্রামের মুখে চক্রান্ত নতি স্বীকার করতে বাধ্য হয়। বর্তমানে বিপিসি চট্টগ্রামের জয়পাহাড়ে নিজস্ব স্থায়ী কার্যালয়ে তার কার্যক্রম সফলভাবে পরিচালনা করছে।
সচেতন চট্টলাবাসীর ১২ দফা দাবি (সংক্ষেপ)
চট্টগ্রামকে পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে উত্থাপিত প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে:
* চট্টগ্রামকে পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক রাজধানী ঘোষণা করা
* গুরুত্বপূর্ণ সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান স্থানান্তর বন্ধ করা।
* বন্দর অবকাঠামোর আধুনিকায়ন।
* শিল্প ও কর্পোরেট খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি।
* যোগাযোগ ব্যবস্থা ও লজিস্টিক উন্নয়ন।
* জ্বালানি নিরাপত্তা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন।
আন্দোলনের প্রভাব ও ঐতিহ্য
এই আন্দোলন সামাজিক মিডিয়া, গণমাধ্যম ও নাগরিক সংগঠনের মধ্যে ব্যাপক জনমত সৃষ্টি করে। মানববন্ধন, সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণই ছিল এই আন্দোলনের মূল শক্তি। চক্রান্ত ব্যর্থ করে বিপিসি চট্টগ্রামে থাকার মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয়েছে যে, সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে একজন মানুষই কীভাবে পুরো একটি চক্রান্তকে রুখে দিতে পারে।
আন্দোলনের সফল সমাপ্তির পর প্রধানমন্ত্রী দেশনেতা তারেক রহমান এবং অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর প্রতি বিশেষ ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে সাংবাদিক মুনীর চৌধুরী ও ‘সচেতন চট্টলাবাসী’ যে রাজনৈতিক সৌজন্য ও উদারতা দেখিয়েছেন, তা চাটগাঁর ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতিরই অংশ
চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক স্বাধিকার রক্ষার এই লড়াকু বীর সাংবাদিক মুনীর চৌধুরীকে চাটগাঁবাসী আজীবন শ্রদ্ধার সঙ্গে মনে রাখবে।