মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা উপেক্ষা করে বিপিসি লিয়াজোঁ অফিসের নামে ঢাকা বসে তদবির বাণিজ্য: চেয়ারম্যান ও পরিচালকদের চট্টগ্রামে নিয়মিত অফিস করার দাবি সচেতন চট্টল্লাবাসী.
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম:
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান এবং পরিচালকদের ঢাকায় অবস্থান করে কার্যক্রম পরিচালনা এবং লিয়াজোঁ অফিসের নামে অনিয়ম-তদবির বাণিজ্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে নাগরিক উন্নয়ন সংগঠন ‘সচেতন চট্টলাবাসী’ সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মুনীর চৌধুরী ঢাকার লিয়াজোঁ অফিস অবিলম্বে বাতিল করে শীর্ষ কর্মকর্তাদের চট্টগ্রামে প্রধান কার্যালয়ে নিয়মিত অফিস করার জোর দাবি জানিয়েছেন।
এক বিবৃতিতে সাংবাদিক মুনীর চৌধুরী বলেন, আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন করে এবং জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও বিপিসির চেয়ারম্যান ও পরিচালকেরা চট্টগ্রামের প্রধান কার্যালয়ে নিয়মিত অফিস করছেন না। তারা ঢাকার লিয়াজোঁ অফিসকে কেন্দ্র বানিয়ে মাসের পর মাস অবস্থান করছেন এবং বিভিন্ন তদবির বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন。
বিবৃতিতে আরও অভিযোগ করা হয়, বিপিসির শীর্ষ কর্মকর্তারা মূলত ঢাকায় অবস্থান করলেও, মাঝেমধ্যে চট্টগ্রামে আসার সময় সেটিকে সরকারি ‘সফরসূচি’ বা ভ্রমণ হিসেবে দেখিয়ে মোটা অঙ্কের ভ্রমণ ভাতা (TA/DA) বিল অবৈধভাবে উত্তোলন করছেন। এর ফলে একদিকে যেমন রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় হচ্ছে, অন্যদিকে জ্বালানি খাতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই সংস্থার প্রশাসনিক স্থবিরতা ও ব্যয় বহুলাংশে বৃদ্ধি পাচ্ছে। চট্টগ্রামের সার্সন রোডে শত কোটি টাকা ব্যয়ে নিজস্ব আধুনিক ভবন নির্মিত হলেও কর্মকর্তাদের অনীহার কারণে প্রধান কার্যালয়টি পূর্ণাঙ্গভাবে সচল হতে পারছে না।
‘সচেতন চট্টলাবাসী’র প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক মুনীর চৌধুরী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, চট্টগ্রাম দেশের প্রধান বন্দর নগরী এবং প্রধান জ্বালানি তেল বিপণনকারী কোম্পানিগুলোর কেন্দ্রবিন্দু এখানে প্রধান কার্যালয় সচল না রেখে ঢাকাকেন্দ্রিক আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও অনিয়ম কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। অবিলম্বে ঢাকার লিয়াজোঁ অফিস বন্ধ করে চেয়ারম্যানসহ সকল পরিচালককে চট্টগ্রামে বসে নিয়মিত দাপ্তরিক কাজ করার জন্য তিনি সরকারের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। অন্যথায় চট্টগ্রামের বাণিজ্যিক অধিকার রক্ষায় কঠোর নাগরিক আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে বলে বিবৃতিতে জানানো হয়।