• বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ০৫:৪৭ অপরাহ্ন
Headline
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেনের দায়িত্ব গ্রহণ সাহস, দক্ষতা ও নেতৃত্বের প্রতীক সিএমপি ডিসি (নর্থ) আমিরুল ইসলাম সাংবাদিক মুনীর চৌধুরীর নেতৃত্বে তীব্র আন্দোলনের মুখে পিছু হটল বিপিসি: পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক রাজধানীর দাবিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ১২ দফা স্মারকলিপি দিল ‘সচেতন চট্টলাবাসী’. চট্টগ্রাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প সংক্রান্ত প্রতিবেদনের প্রতিবাদ: সচেতন নাগরিকবৃন্দের বক্তব্য. আনোয়ারায় ৪১৮৯ কোটি টাকার চীনা শিল্পাঞ্চল একনেকে অনুমোদন : প্রধানমন্ত্রীকে ‘সচেতন চট্টলাবাসী’র ধন্যবাদ. চট্টগ্রাম-৯ আসনের নবনির্বাচিত এমপি মোহাম্মদ আবু সুফিয়ানকে মন্ত্রিসভায় দেখতে চায় এলাকাবাসী পুলিশের সুখ দুঃখ – বাংলাদেশ পুলিশের অদৃশ্য জীবন দায়িত্বের পাহাড়ে নুয়ে পড়া এক জীবন:পুলিশের অদৃশ্য বাস্তবতা. প্রতিবাদলিপি- চট্টগ্রাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প সংক্রান্ত প্রকাশিত প্রতিবেদনের প্রতিবাদ আওয়ামী আমলের ‘একচেটিয়া নিয়ন্ত্রক’ বন্দরখেকো মাফিয়া এখন ‘দেশপ্রেমিক বিনিয়োগকারী-নেপথ্যে দুই এমপির নতুন সিন্ডিকেট! পুলিশের সুখ দুঃখ – পুলিশের নন-ক্যাডার ও ক্যাডার কাঠামোর বৈষম্য:পদোন্নতি জটিলতা ও গ্রেড ব্যবধান ঘিরে পুলিশের অভ্যন্তরে অসন্তোষ.

দেয়ালের ওপারেও আনন্দ: যেভাবে ঈদ উদযাপন করেন বাংলাদেশের কারাবন্দীরা-শাস্তি নয়,সংশোধন ও মানবিকতাই হোক মূল লক্ষ্য।

Reporter Name / ৬৩ Time View
Update : বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬

দেয়ালের ওপারেও আনন্দ: যেভাবে ঈদ উদযাপন করেন বাংলাদেশের কারাবন্দীরা-শাস্তি নয়,সংশোধন ও মানবিকতাই হোক মূল লক্ষ্য।

নিজস্ব প্রতিবেদক-
বাংলাদেশের লাখ লাখ মুসলমানের কাছে ঈদুল ফিতর মানেই পরিবারের পুনর্মিলন, প্রাণবন্ত রাস্তার উৎসব আর ঘরে তৈরি সুস্বাদু খাবারের আয়োজন। তবে দেশের কেন্দ্রীয় কারাগারগুলোর উঁচু কংক্রিটের দেয়াল আর লোহার শিকের পেছনে থাকা হাজারো মানুষের কাছে এই উৎসবের অর্থ একেবারেই ভিন্ন এবং অনেক বেশি শান্ত।
বাস্তবতা (প্রেক্ষাপট)
গাদাগাদি করে থাকা কারাগারের ওয়ার্ডগুলোতে বাইরের পৃথিবীর কোলাহলের জায়গায় জায়গা করে নেয় একটি কঠোর রুটিন। সাজাপ্রাপ্ত বা বিচারাধীন হাজার হাজার বন্দীর জন্য এই উৎসবের দিনগুলোতে বাড়ির জন্য ব্যাকুলতা সবচেয়ে বেশি কাজ করে। তিনবার ঈদ কারাগারে কাটানো একজন প্রাক্তন বন্দী [নাম/ছদ্মনাম যুক্ত করুন] বলেন, “ঈদের সকালের নামাজ যখন শুরু হয়, তখন একাকীত্ব সবচেয়ে বেশি আঘাত করে। আপনি চারপাশে তাকাবেন এবং দেখবেন সবাই তাদের সন্তানদের কথা মনে করে কাঁদছে।”
মানবিক দিক (কারাগারের ভেতরের ঈদের অভিজ্ঞতা)
বন্দী জীবনের সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও, বাংলাদেশের কারা কর্তৃপক্ষ এই উৎসবে বন্দীদের মাঝে মর্যাদা এবং আনন্দের অনুভূতি ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। এই পরিবর্তনটা মূলত শুরু হয় কারাগারের রান্নাঘর থেকে।
* সান্ত্বনার ভোজ: ঈদের দিন সকালে কারাগারের সাধারণ ডাল-ভাতের পরিবর্তে ঐতিহ্যবাহী উৎসবের খাবার দেওয়া হয়। বন্দীদের পোলাও, মাংস, সেমাই এবং সুস্বাদু কোরমা পরিবেশন করা হয়।
* আধ্যাত্মিক বন্ধন: কারাগারের প্রাঙ্গণে বিশাল ঈদ জামাতের আয়োজন করা হয়। সেখানে বন্দীরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নামাজ পড়েন এবং কোলাকুলি করেন, যা ক্ষণিকের জন্য হলেও তাদের বন্দিত্বের গ্লানি ভুলিয়ে দেয়।
প্রাতিষ্ঠানিক প্রয়াস ও সংস্কার (প্রেক্ষাপট ও উক্তি)
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের কারা অধিদপ্তর কেবল শাস্তি দেওয়ার চেয়ে বন্দীদের সংশোধন ও পুনর্বাসনের ওপর বেশি জোর দিচ্ছে।
* পরিবারের সাথে যোগাযোগ: ঈদের দিন বন্দীদের জন্য পরিবারের সদস্যদের সাথে বর্ধিত সময়ে ফোনে কথা বলা বা কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করা সরাসরি সাক্ষাতের বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়।
* সাংস্কৃতিক মাধ্যম: বন্দীদের মানসিক অবসাদ দূর করতে কারাগারের ভেতরেই অভ্যন্তরীণ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়, যেখানে বন্দীরা নিজেরাই গান, নাটক এবং কবিতা আবৃত্তি করেন।
কারা কর্মকর্তাদের মতে, বন্দীদের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য এই পদক্ষেপগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক এক ছুটির ব্রিফিংয়ে একজন ঊর্ধ্বতন কারা কর্মকর্তা বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হলো তাদের মানুষের মর্যাদা এবং সমাজের ক্ষমাশীলতার কথা মনে করিয়ে দেওয়া।”
ঈদের দিন সূর্য ডোবার সাথে সাথে সাময়িক উৎসবের আমেজ শেষ হয়ে আসে এবং ভারী লোহার গেটগুলো আবারও বন্ধ হয়ে যায়। তবে এই কয়েক ঘণ্টার উদযাপন কেবল ভালো খাবারের চেয়েও বেশি কিছু দেয়—এটি তাদের মনে আশার আলো জাগায়, বাইরের পৃথিবীর সাথে সংযোগ ঘটায় এবং মনে করিয়ে দেয় যে লোহার শিকের পেছনেও মানুষের মর্যাদা টিকে থাকে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা