• বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ০৩:২৮ অপরাহ্ন
Headline
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেনের দায়িত্ব গ্রহণ সাহস, দক্ষতা ও নেতৃত্বের প্রতীক সিএমপি ডিসি (নর্থ) আমিরুল ইসলাম সাংবাদিক মুনীর চৌধুরীর নেতৃত্বে তীব্র আন্দোলনের মুখে পিছু হটল বিপিসি: পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক রাজধানীর দাবিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ১২ দফা স্মারকলিপি দিল ‘সচেতন চট্টলাবাসী’. চট্টগ্রাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প সংক্রান্ত প্রতিবেদনের প্রতিবাদ: সচেতন নাগরিকবৃন্দের বক্তব্য. আনোয়ারায় ৪১৮৯ কোটি টাকার চীনা শিল্পাঞ্চল একনেকে অনুমোদন : প্রধানমন্ত্রীকে ‘সচেতন চট্টলাবাসী’র ধন্যবাদ. চট্টগ্রাম-৯ আসনের নবনির্বাচিত এমপি মোহাম্মদ আবু সুফিয়ানকে মন্ত্রিসভায় দেখতে চায় এলাকাবাসী পুলিশের সুখ দুঃখ – বাংলাদেশ পুলিশের অদৃশ্য জীবন দায়িত্বের পাহাড়ে নুয়ে পড়া এক জীবন:পুলিশের অদৃশ্য বাস্তবতা. প্রতিবাদলিপি- চট্টগ্রাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প সংক্রান্ত প্রকাশিত প্রতিবেদনের প্রতিবাদ আওয়ামী আমলের ‘একচেটিয়া নিয়ন্ত্রক’ বন্দরখেকো মাফিয়া এখন ‘দেশপ্রেমিক বিনিয়োগকারী-নেপথ্যে দুই এমপির নতুন সিন্ডিকেট! পুলিশের সুখ দুঃখ – পুলিশের নন-ক্যাডার ও ক্যাডার কাঠামোর বৈষম্য:পদোন্নতি জটিলতা ও গ্রেড ব্যবধান ঘিরে পুলিশের অভ্যন্তরে অসন্তোষ.

আওয়ামী আমলের ‘একচেটিয়া নিয়ন্ত্রক’ বন্দরখেকো মাফিয়া এখন ‘দেশপ্রেমিক বিনিয়োগকারী-নেপথ্যে দুই এমপির নতুন সিন্ডিকেট!

Reporter Name / ৫৬ Time View
Update : শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬

আওয়ামী আমলের ‘একচেটিয়া নিয়ন্ত্রক’ বন্দরখেকো মাফিয়া এখন ‘দেশপ্রেমিক বিনিয়োগকারী-নেপথ্যে দুই এমপির নতুনসিন্ডিকেট!

বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন-
চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে লাভজনক ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) আগামী ১৫ বছরের জন্য ইজারা নিতে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে একটি নতুন প্রস্তাব জমা পড়েছে。 আপাতদৃষ্টিতে এটিকে ‘দেশীয় সক্ষমতা বৃদ্ধির’ একটি সাধারণ ব্যবসায়িক প্রস্তাব মনে হলেও, এর নেপথ্যে রয়েছে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কব্জায় রাখার এক গভীর রাজনৈতিক ও কৌশলগত সমীকরণ
দুবাইভিত্তিক বহুজাতিক সাথে সরকারের দীর্ঘদিনের জিটুজি (G2G) বা রাষ্ট্রীয় চুক্তি যখন চূড়ান্ত হওয়ার দ্বারপ্রান্তে, ঠিক সেই মুহূর্তে নতুন রাজনৈতিক শক্তির ছায়াতলে মাঠে নেমেছে এক রহস্যময় দেশীয় কনসোর্টিয়াম।
‘সাইফ-কসমস-এভারেস্ট’ জোট: রাজনৈতিক ক্ষমতার নতুন ভারসাম্য
অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ২৯ এপ্রিল নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে জমাদানকৃত এই প্রস্তাবটি এসেছে ‘সাইফ-কসমস-এভারেস্ট পোর্ট সার্ভিসেস কনসোর্টিয়াম’ নামে。 এই জোটের মূল কুশীলব ও অংশীদারদের রাজনৈতিক পরিচয় বিশ্লেষণ করলে এক চাঞ্চল্যকর চিত্র ফুটে ওঠে:
১. সাইফ পাওয়ারটেক লিমিটেড: বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রায় ১৭ বছর ধরে চট্টগ্রাম বন্দরে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তারকারী প্রতিষ্ঠান。 এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক তরফদার মো. রুহুল আমিন,(বন্দর খেকো মাফিক)
যাকে বন্দর সংশ্লিষ্টদের অনেকেই দীর্ঘদিনের ‘একচেটিয়া সিন্ডিকেটের’ প্রধান হিসেবে অভিহিত করে থাকেন, বিগত সরকারের পতনের পর যখন তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্ত এবং নানা আইনি ব্যবস্থা জোরদার হচ্ছিল, ঠিক তখনই তিনি বর্তমান রাজনৈতিক ক্ষমতার বলয়ে নিজের পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে এই নতুন জোট গঠন করেন।
২. কসমস এন্টারপ্রাইজ: এই অংশীদার প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান হলেন লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবং বর্তমান সরকারদলীয় হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান। তার ছেলে হাসিন বিন আশরাফ এই প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং পার্টনার হিসেবে এই প্রস্তাবে স্বাক্ষর করেছেন。
৩. এভারেস্ট পোর্ট সার্ভিসেস লিমিটেড: এই প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হলেন লক্ষ্মীপুর-১ আসনের প্রভাবশালী সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম। শেখ হাসিনার সাবেক প্রটোকল কর্মকর্তার পরিবারের আশীর্বাদপুষ্ট হিসেবে পরিচিত এই প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে অতীতে আদালতে মামলা করে বন্দর হ্যান্ডলিংয়ের স্বাভাবিক টেন্ডার প্রক্রিয়া আটকে রাখার অভিযোগ রয়েছে.
দেশপ্রেম’-এর মোড়কে কোটি টাকার খেলা
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বিগত ২০০৭ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বন্দর কর্তৃপক্ষের কেনা রাষ্ট্রীয় যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে কোনো উন্মুক্ত টেন্ডার ছাড়াই, ‘ডাইরেক্ট প্রকিউরমেন্ট’ বা সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে এনসিটির একচ্ছত্র সুবিধা ভোগ করেছে সাইফ পাওয়ারটেক。
বর্তমানে ডিপি ওয়ার্ল্ড ও এমজিএইচ গ্রুপ যেখানে ‘পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি)’ মডেলে শত কোটি টাকা বিনিয়োগের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করছে, সেখানে এই দেশীয় কনসোর্টিয়াম প্রস্তাব করেছে একটি ‘সার্ভিস-বেজড’ বা সেবা-ভিত্তিক অপারেটিং মডেল。 এই মডেলে তারা প্রতি কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের জন্য ৬৯ ডলার ‘অপারেশনাল ফি’ দাবি করেছে。
কনসোর্টিয়ামের দাবি, এই মডেলে তারা বন্দরের নিজস্ব যন্ত্রপাতি ব্যবহার করবে এবং সমস্ত রক্ষণাবেক্ষণ ও জনবল খরচ তারা বহন করবে। সাইফ পাওয়ারটেকের এমডি তরফদার রুহুল আমিনের ভাষ্য, “দেশীয় প্রতিষ্ঠান টার্মিনাল পরিচালনা করলে টাকা দেশেই থাকবে。 জাতীয় সক্ষমতা বাড়াতে দেশীয় অপারেটরদের সুযোগ দেওয়া উচিত।”
তবে বন্দর সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন ভিন্ন কথা। তাদের মতে, কোনো বড় বৈশ্বিক বিনিয়োগ ও কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ে আন্তর্জাতিক মানের আধুনিক প্রযুক্তিগত অভিজ্ঞতা ছাড়াই শুধুমাত্র দুই এমপির রাজনৈতিক প্রভাবকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে টার্মিনালটি আবারও নিজেদের কব্জায় রাখার এটি একটি সুদূরপ্রসারী কৌশল
আইনি ও নৈতিকতার প্রশ্ন,?
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (RPO) এবং দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, কোনো সংসদ সদস্যের সরাসরি বা পরোক্ষভাবে সরকারের কোনো লাভজনক চুক্তি বা ব্যবসায়িক কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার ওপর আইনি নিষেধাজ্ঞা ও নৈতিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। দুই ক্ষমতাসীন সংসদ সদস্যের সরাসরি মালিকানাধীন বা নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে গঠিত কনসোর্টিয়াম কীভাবে রাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কেপিআই (KPI) বা গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ইজারা নেওয়ার প্রস্তাব দেয়, তা নিয়ে সুশীল সমাজ এবং সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর মতো সংস্থাগুলো তীব্র ক্ষোভ ও আইনি প্রশ্ন তুলেছে।
অনড় অবস্থানে সরকার:
ডিপি ওয়ার্ল্ডই অগ্রাধিকার
তবে ক্ষমতার পালাবদলে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বন্দরের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার এই চেষ্টা এই মুহূর্তে সফল হচ্ছে না বলে ইঙ্গিত মিলেছে সরকারের ঊর্ধ্বতন মহল থেকে।
নৌপরিবহন সচিব মোহাম্মদ জাকারিয়া এ প্রসঙ্গে স্পষ্ট করে বলেন, “বর্তমানে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সাথে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের আলোচনা আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার, যেহেতু তাদের সাথে আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে, তাই এই মুহূর্তে কোনো নতুন দেশীয় বা ব্যক্তিগত প্রস্তাব বিবেচনার কোনো সুযোগ নেই, যদি কোনো কারণে এই আলোচনা সফল না হয়, তবেই কেবল উন্মুক্ত আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হবে।”
প্রতিবেদকের মন্তব্য
আওয়ামী লীগের আমলে একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তারকারী ব্যবসায়ী এবং বর্তমানের প্রভাবশালী দুই সংসদ সদস্যের এই অশুভ আঁতাত চট্টগ্রাম বন্দরের সুশাসন ও নিরপেক্ষতাকে নতুন করে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়েছে। ডিপি ওয়ার্ল্ডের মতো বৈশ্বিক জায়ান্টদের বাদ দিয়ে যদি কোনো বিশেষ রাজনৈতিক প্রভাবের কাছে সরকার নতি স্বীকার করে, তবে তা আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশের বিদেশি বিনিয়োগের পরিবেশ ও নির্ভরযোগ্যতাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করবে বলে মনে করছেন দেশের অর্থনীতিবিদ ও বন্দর বিশেষজ্ঞরা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা