চট্টগ্রামে শতভাগ স্বচ্ছতায় পুলিশের কনস্টেবল পদে ১৪৩ জনের নিয়োগ: চাকরি পেয়ে কাঁদলেন দিনমজুরের সন্তানরা।
কোনো প্রকার সুপারিশ, আর্থিক লেনদেন কিংবা দালালের দৌরাত্ম্য ছাড়াই সম্পূর্ণ মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে বাংলাদেশ পুলিশে ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে চূড়ান্তভাবে চাকরি পেয়েছেন চট্টগ্রামের ১৪৩ জন তরুণ-তরুণী।
ঢাকা জেলার পর দেশের অন্যতম সর্বোচ্চ সংখ্যক এই নিয়োগ প্রক্রিয়াকে শতভাগ স্বচ্ছ ও বির্তকহীন রাখায় প্রশাসন ও বর্তমান পরীক্ষা ব্যবস্থার প্রতি ব্যাপক সন্তোষ প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষ।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালের এই নিয়োগ কার্যক্রমে চট্টগ্রাম জেলা থেকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত ১৪৩ জনের মধ্যে ১২১ জন পুরুষ এবং ২২ জন নারী প্রার্থী রয়েছেন। সম্পূর্ণ শারীরিক যোগ্যতা, কঠোর লিখিত পরীক্ষা এবং মনস্তাত্ত্বিক ও মৌখিক পরীক্ষার প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে এই মেধা তালিকা তৈরি করা হয়েছে। নির্বাচিতদের মধ্যে অনেকেরই বাবা দিনমজুর, রিকশাচালক কিংবা সাধারণ কৃষক। শুধু নিজেদের মেধার জোরে কোনো টাকা ছাড়াই বাংলাদেশ পুলিশের মতো একটি সুশৃঙ্খল বাহিনীতে যুক্ত হতে পেরে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার পর আনন্দাশ্রুতে ভেঙে পড়েন নির্বাচিত প্রার্থী ও তাদের অভিভাবকেরা।
নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষে এক বিশেষ ব্রিফিংয়ে চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার
বলেন—
“আমরা শুরু থেকেই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলাম যে একটি টাকাও কাউকে অবৈধভাবে দিতে দেওয়া হবে না।
দেশের মেধাবী ও শারীরিক যোগ্যতাসম্পন্ন তরুণরাই এবার পুলিশে সুযোগ পেয়েছেন।
কোনো দালাল বা প্রতারক চক্র যাতে সাধারণ প্রার্থীদের বিভ্রান্ত করতে না পারে, সেজন্য আমরা কঠোর গোয়েন্দা নজরদারি বজায় রেখেছিলাম।
সম্পূর্ণ মেধা ও স্বচ্ছতার এই ধারা ভবিষ্যতেও বজায় থাকবে।”
নব্য নির্বাচিত প্রার্থীদের উদ্দেশ্যে পুলিশ সুপার আরও বলেন, “তোমরা কোনো টাকা বা মামা-খালুর সুপারিশে আসোনি, এসেছ নিজের যোগ্যতায়। তাই দেশের মানুষের সেবা করার সময়ও যেন এই সততা ও নিষ্ঠার প্রতিফলন ঘটে। তোমরা হবেন ‘সেবার ব্রতে’ বলীয়ান খাঁটি দেশপ্রেমিক ।
চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান পুলিশ সুপার । তিনি নবনিযুক্তদের জনগণের সেবায় সততা, পেশাদারিত্ব ও মানবিক মূল্যবোধ নিয়ে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।
জেলা পুলিশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চূড়ান্ত মেধা তালিকায় স্থান পাওয়া এই ১৪৩ জন প্রার্থীর পরবর্তী ধাপ হিসেবে জরুরি ভিত্তিতে স্বাস্থ্য পরীক্ষা (Medical Test) এবং পুলিশ ভেরিফিকেশন (Police Verification) সম্পন্ন করা হবে। এই প্রক্রিয়াগুলো সফলভাবে শেষ হওয়ার পরপরই তাদের নির্ধারিত পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারে মৌলিক প্রশিক্ষণের জন্য পাঠানো হবে।
সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানান, এবারের পুরো নিয়োগ কার্যক্রমে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে বিশেষ হটলাইন এবং কঠোর মনিটরিং সেল চালু রাখা হয়েছিল।
ফলে কোনো পক্ষই নিয়োগে কোনো ধরনের অনৈতিক প্রভাব খাটানোর সুযোগ পায়নি।
মেধার এই জয়জয়কার চট্টগ্রামের সাধারণ চাকরিপ্রার্থীদের মাঝে এক নতুন আশার আলো সঞ্চার করেছে।