• বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ০৩:৫৫ অপরাহ্ন
Headline
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেনের দায়িত্ব গ্রহণ সাহস, দক্ষতা ও নেতৃত্বের প্রতীক সিএমপি ডিসি (নর্থ) আমিরুল ইসলাম সাংবাদিক মুনীর চৌধুরীর নেতৃত্বে তীব্র আন্দোলনের মুখে পিছু হটল বিপিসি: পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক রাজধানীর দাবিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ১২ দফা স্মারকলিপি দিল ‘সচেতন চট্টলাবাসী’. চট্টগ্রাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প সংক্রান্ত প্রতিবেদনের প্রতিবাদ: সচেতন নাগরিকবৃন্দের বক্তব্য. আনোয়ারায় ৪১৮৯ কোটি টাকার চীনা শিল্পাঞ্চল একনেকে অনুমোদন : প্রধানমন্ত্রীকে ‘সচেতন চট্টলাবাসী’র ধন্যবাদ. চট্টগ্রাম-৯ আসনের নবনির্বাচিত এমপি মোহাম্মদ আবু সুফিয়ানকে মন্ত্রিসভায় দেখতে চায় এলাকাবাসী পুলিশের সুখ দুঃখ – বাংলাদেশ পুলিশের অদৃশ্য জীবন দায়িত্বের পাহাড়ে নুয়ে পড়া এক জীবন:পুলিশের অদৃশ্য বাস্তবতা. প্রতিবাদলিপি- চট্টগ্রাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প সংক্রান্ত প্রকাশিত প্রতিবেদনের প্রতিবাদ আওয়ামী আমলের ‘একচেটিয়া নিয়ন্ত্রক’ বন্দরখেকো মাফিয়া এখন ‘দেশপ্রেমিক বিনিয়োগকারী-নেপথ্যে দুই এমপির নতুন সিন্ডিকেট! পুলিশের সুখ দুঃখ – পুলিশের নন-ক্যাডার ও ক্যাডার কাঠামোর বৈষম্য:পদোন্নতি জটিলতা ও গ্রেড ব্যবধান ঘিরে পুলিশের অভ্যন্তরে অসন্তোষ.

পুলিশের সুখ দুঃখ – বাজেট কমায় উদ্বেগ আরও বাড়ছে:আড়াই লাখ পুলিশ সদস্যের ৯০ শতাংশেরই নেই আবাসন সুবিধা জনবল বাড়লেও আবাসন সংকট কাটেনি.

Reporter Name / ১০৩ Time View
Update : শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬

পুলিশের সুখ দুঃখ –
বাজেট কমায় উদ্বেগ আরও বাড়ছে:আড়াই লাখ পুলিশ সদস্যের ৯০ শতাংশেরই নেই আবাসন সুবিধা জনবল বাড়লেও আবাসন সংকট কাটেনি.

” মুনীর চৌধুরী ‘
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বাংলাদেশ পুলিশের জন্য বরাদ্দ কমেছে ১০৮ কোটি টাকা। পাশাপাশি নির্ধারিত ব্যয়সীমা থেকে আরও ৪৬২ কোটি টাকা কমিয়ে নেওয়া হয়েছে। ফলে পুলিশের আবাসন, যানবাহন ও জ্বালানি খাতে ব্যয় সংকোচনের প্রভাব মাঠপর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা কার্যক্রমে পড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্ট মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
গত দেড় দশকে বাংলাদেশ পুলিশের সদস্য সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। নতুন নতুন ইউনিট, বিশেষায়িত বাহিনী এবং বিভিন্ন ধরনের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কার্যক্রম সম্প্রসারণের ফলে পুলিশের সাংগঠনিক সক্ষমতা যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে সদস্য সংখ্যাও। কিন্তু সেই অনুপাতে বাড়েনি আবাসন সুবিধা। বর্তমানে প্রায় আড়াই লাখ পুলিশ সদস্যের মধ্যে মাত্র ১০ শতাংশ সরকারি আবাসন সুবিধা পাচ্ছেন। বাকি প্রায় ৯০ শতাংশ সদস্যকে নিজস্ব বা ভাড়া বাসায় বসবাস করতে হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আবাসন শুধু একটি সুযোগ-সুবিধা নয়; এটি একটি বাহিনীর মনোবল, পেশাগত দক্ষতা এবং কর্মপরিবেশের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। দীর্ঘদিন ধরে আবাসন সংকটের সমাধান না হওয়ায় পুলিশ সদস্যদের মধ্যে অসন্তোষ ও মানসিক চাপ বাড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জনবল বেড়েছে, বাড়েনি আবাসন
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০১০ সালে বাংলাদেশ পুলিশের সদস্য সংখ্যা ছিল প্রায় ১ লাখ ১৭ হাজার। বর্তমানে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় আড়াই লাখে। এ সময়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে একাধিক নতুন ইউনিট, যার মধ্যে রয়েছে পিবিআই, ট্যুরিস্ট পুলিশ, নৌ-পুলিশ, এটিইউ, পুলিশ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর এবং এমআরটি ইউনিট।
কিন্তু জনবল বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে আবাসন অবকাঠামো গড়ে ওঠেনি। ফলে অধিকাংশ সদস্যকে ব্যক্তিগত ব্যবস্থাপনায় বাসা ভাড়া করে থাকতে হচ্ছে। বিশেষ করে কনস্টেবল, নায়েক, এএসআই ও এসআই পর্যায়ের সদস্যরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
ব্যারাকেও জায়গা সংকট
পুলিশ সদস্যদের অভিযোগ, অনেক ব্যারাকে ধারণক্ষমতার তুলনায় দ্বিগুণ বা তারও বেশি সদস্য অবস্থান করছেন। কোথাও কোথাও একজনের জন্য নির্ধারিত স্থানে দুই থেকে তিনজন সদস্যকে থাকতে হচ্ছে।
রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলা শহরে আবাসন সংকট এতটাই প্রকট যে, অনেক সদস্যকে কর্মস্থল থেকে দূরে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতে হয়। এতে কর্মঘণ্টা বৃদ্ধি, যাতায়াত ব্যয় এবং পারিবারিক চাপ বেড়ে যায়।
একাধিক পুলিশ সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সরকারি আবাসন সুবিধা পেলে তাদের জীবনযাত্রার ব্যয় অনেকটাই কমে আসত। একইসঙ্গে কর্মস্থলে উপস্থিতি ও দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ত।
বাজেট কমায় উদ্বেগ
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে পুলিশের আবাসিক ও অনাবাসিক ভবন নির্মাণ খাতে বরাদ্দ কমানো হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, আবাসন সংকট নিরসনের জন্য যখন নতুন প্রকল্প ও অবকাঠামো নির্মাণ প্রয়োজন, তখন বরাদ্দ কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, একটি আধুনিক ও পেশাদার পুলিশ বাহিনী গড়ে তুলতে হলে সদস্যদের মৌলিক চাহিদা নিশ্চিত করা জরুরি। আবাসন সুবিধা না থাকলে কর্মক্ষেত্রে মানসিক চাপ বৃদ্ধি পায়, যা দীর্ঘমেয়াদে বাহিনীর কার্যকারিতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
রাজধানীতেও সংকট
রাজধানী ঢাকায় পুলিশের জন্য বিভিন্ন ধরনের আবাসন ব্যবস্থা থাকলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। ব্যারাক, অফিসার্স কোয়ার্টার, ফ্ল্যাট ও ডরমিটরি মিলিয়ে যে আবাসন সুবিধা রয়েছে, তা মোট সদস্য সংখ্যার একটি ক্ষুদ্র অংশকে কভার করে।
ফলে রাজধানীতে কর্মরত অধিকাংশ পুলিশ সদস্যকে বেসরকারি বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতে হয়। এতে তাদের মাসিক ব্যয়ের বড় একটি অংশ বাসাভাড়ায় চলে যায়।
মনোবল ও সেবার সঙ্গে সম্পর্ক
বিশেষজ্ঞদের মতে, পুলিশের আবাসন সমস্যা শুধু সদস্যদের ব্যক্তিগত সমস্যা নয়; এটি জনসেবার সঙ্গেও জড়িত। পর্যাপ্ত আবাসন, পরিবহন ও অন্যান্য কল্যাণমূলক সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে সদস্যদের কর্মোদ্যম ও দায়িত্ববোধ বাড়ে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের এক শিক্ষক বলেন, “একজন পুলিশ সদস্য যখন মৌলিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন, তখন তার কর্মদক্ষতার ওপর প্রভাব পড়া স্বাভাবিক। উন্নত সেবা নিশ্চিত করতে হলে সদস্যদের কল্যাণের বিষয়টিও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।”
করণীয় কী
সংশ্লিষ্টদের মতে, আবাসন সংকট নিরসনে দীর্ঘমেয়াদি মাস্টারপ্ল্যান গ্রহণ, সরকারি জমিতে বহুতল আবাসন নির্মাণ, বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে নতুন পুলিশ হাউজিং প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং কল্যাণ তহবিল শক্তিশালী করা প্রয়োজন।
তাদের মতে, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যে বাহিনী দিন-রাত কাজ করে, তাদের জন্য ন্যূনতম আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বাংলাদেশ পুলিশের জন্য বরাদ্দ কমেছে ১০৮ কোটি টাকা। পাশাপাশি নির্ধারিত ব্যয়সীমা থেকে আরও ৪৬২ কোটি টাকা কমিয়ে নেওয়া হয়েছে। ফলে পুলিশের আবাসন, যানবাহন ও জ্বালানি খাতে ব্যয় সংকোচনের প্রভাব মাঠপর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা কার্যক্রমে পড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্ট মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী, পুলিশের পরিচালন ও উন্নয়ন ব্যয়ের কিছু গুরুত্বপূর্ণ খাতে বরাদ্দ কমানো হয়েছে। বিশেষ করে আবাসিক ও অনাবাসিক ভবন নির্মাণ, যানবাহন সংগ্রহ এবং জ্বালানি ব্যয়ের ক্ষেত্রে কাটছাঁট করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, পুলিশের বিদ্যমান আবাসন সুবিধা এখনো মোট সদস্যের মাত্র ৯ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ। ফলে নতুন আবাসন প্রকল্পে বরাদ্দ হ্রাস সদস্যদের জীবনমান উন্নয়নের উদ্যোগকে আরও ধীরগতির করে তুলতে পারে।
আবাসন সংকট আরও প্রকট হওয়ার আশঙ্কা
তথ্যছক-
বাংলাদেশ পুলিশ: আবাসন চিত্র
মোট সদস্য: প্রায় ২ লাখ ৭৩ হাজার
সরকারি আবাসন সুবিধা পান: প্রায় ১০%
আবাসন সুবিধাবঞ্চিত: প্রায় ৯০%
গত ১৫ বছরে সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি: প্রায় দ্বিগুণ
নতুন ইউনিট: পিবিআই, ট্যুরিস্ট পুলিশ, নৌ-পুলিশ, এটিইউ, এমআরটি ইউনিটসহ একাধিক ইউনিট
প্রধান সংকট: আবাসন, যানবাহন, লজিস্টিক ও কল্যাণ সুবিধা.
লেখক –
মুনীর চৌধুরী
লেখক ও পরিচালক,
পুলিশের সুখ দুঃখ কলাম/অনুষ্ঠান।
পরিচালক –
ইন্টারন্যাশনাল মিডিয়া।
আবাসিক সম্পাদক
চ্যানেল এস.


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা